হাবিগঞ্জের নিউ ফিল্ডে আজ সকালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী র্যালিতে জামায়াত-এ-ইসলামি অমীর ডা. শফিকুর রহমান চা বাগানকে আধুনিকীকরণ এবং শ্রমিকদের জীবনযাত্রা উন্নত করার প্রতিশ্রুতি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, চা বাগানের কর্মী ও তাদের সন্তানরা বর্তমানে অমানবিক পরিবেশে বসবাস করছেন, যেখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার যথাযথ ব্যবস্থা নেই।
র্যালির মূল বক্তব্যে তিনি বলেন, যদি তার দল শাসনে আসে, তবে চা বাগানের কোনো শিশুকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি সরকারী রিসোর্সের ব্যবহার না করে, সরাসরি শ্রমিকদের কল্যাণে বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করেন।
অমীর আরও জানান, জামায়াত-এ-ইসলামি শীর্ষস্থানীয় সদস্যরা সংসদে নির্বাচিত হলে তারা কোনো করমুক্ত গাড়ি ব্যবহার করবে না এবং সরকারী কম দামে ফ্ল্যাট গ্রহণের কোনো ইচ্ছা রাখবে না। প্রয়োজনে রিকশা চালিয়ে গমনাগমন করবেন, এ কথাটি তিনি হাস্যরসের ছলে উপস্থাপন করেন।
রাজনীতিকে পেশা নয়, দায়িত্ব হিসেবে দেখার কথা জোর দিয়ে তিনি বলেন, যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে, তারা দুর্নীতি, জবরদস্তি ও লুটপাটের শিকার হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারীর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে, তিনি সতর্ক করেন এবং নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে কোনো সহানুভূতি দেখাবে না বলে দৃঢ় অবস্থান নেন।
ডা. শফিকুর আরও উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামি সংসদ সদস্যরা বাজার মূল্যে গাড়ি ও ফ্ল্যাট কিনবেন এবং কোনো বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করবেন না। তিনি বলেন, যদি দল শাসনে আসে, তবে দুর্নীতি ও জবরদস্তি শেষ হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আয়-ব্যয়ের বিবরণী এবং তাদের পরিবারের আর্থিক তথ্য সর্বজনীনভাবে প্রকাশ করা হবে। “জনসম্পদের অপব্যবহার করলে কেউই রেহাই পাবে না” – এ কথায় তিনি ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মুক্তি যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি বললেন, স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, কিন্তু আজকের রাজনৈতিক ধারা বৈষম্যকে বজায় রাখছে। দেশকে আবার ভাগ করা হবে না, ধর্মীয় সংহতি বজায় রাখতে হবে – মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সকলেই একসঙ্গে বসবাস করে আসছে, এটাই দেশের মূলে থাকা ঐক্যের ভিত্তি।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে র্যালিতে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠী সাধারণত এমন প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। বর্তমান সময়ে চা শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতা দেশের বৃহত্তর উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায়, এই ঘোষণাগুলি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কী প্রভাব ফেলবে তা পরবর্তী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।
ডা. শফিকুরের এই ঘোষণার পর, উপস্থিত সমর্থকরা তালি ও নাড়ি দিয়ে তার বক্তব্যের সমর্থন জানিয়েছেন। র্যালির সমাপ্তিতে তিনি আবারও জোর দিয়ে বললেন, “আমরা যদি শাসনে আসি, তবে দেশের সকল নাগরিকের জন্য ন্যায়, সমতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করব”।



