সপ্তাহের শেষের দিন, ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের আয়োজনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী মোট ২,০২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫১৯ জন, অর্থাৎ ২৫.৬২ শতাংশ ঋণগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এই ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ৭৫ জনের ঋণ পাঁচ কোটি টাকার বেশি, যা মোট প্রার্থীর ১৪.৪৫ শতাংশের সমান। উচ্চ ঋণযুক্ত এই প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আর্থিক দায়বদ্ধতার দিক থেকে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
পার্টি ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সর্বোচ্চ সংখ্যক ঋণগ্রহীতা প্রার্থী সরবরাহ করেছে; এ দলের ১৬৭ জন প্রার্থী ঋণগ্রহীতা, যা মোট প্রার্থীর ৩২.১৭ শতাংশ গঠন করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে ঋণগ্রহীতা সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, তবে মোট ৩৫২ জন ঋণগ্রহীতা অন্যান্য পার্টির অন্তর্ভুক্ত।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করলে ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর হার কিছুটা কমেছে। পূর্বে এই হার ছিল ২২.৮৩ শতাংশ, আর এইবার তা হ্রাস পেয়ে ২০.৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে। যদিও মোট ঋণগ্রহীতা শতাংশ ২৫.৬২ শতাংশ, তবে পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় ঋণধারী প্রার্থীর অনুপাত হ্রাস পেয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন।
সুজনের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ভোটারদেরকে প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রদান করা। সম্মেলনের সঞ্চালনা সুজনের সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদার করেন, আর কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার তথ্য উপস্থাপন করেন।
প্রেস সম্মেলনে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ভোটাররা প্রার্থীদের আর্থিক দায়িত্বের মাত্রা মূল্যায়ন করতে পারবেন। ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর সংখ্যা ও ঋণের পরিমাণের বিশদ তথ্য ভোটার সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।
ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর মোট সংখ্যা ৫১৯, যা প্রার্থীর এক চতুর্থাংশের কাছাকাছি। এই সংখ্যা পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় সামান্য কম হলেও, এখনও উল্লেখযোগ্য যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ প্রার্থী আর্থিক দায়বদ্ধতা বহন করছেন।
বিশেষত, পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণযুক্ত ৭৫ জন প্রার্থী প্রায় এক-সপ্তম অংশ গঠন করে। এই উচ্চ ঋণধারী প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা ও আর্থিক সমর্থনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন।
বিএনপি সর্বোচ্চ সংখ্যক ঋণগ্রহীতা প্রার্থী সরবরাহের পাশাপাশি, অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর বণ্টন তুলনামূলকভাবে সমানভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। ফলে, ঋণধারী প্রার্থীর উপস্থিতি কেবল একক পার্টির নয়, সমগ্র রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা যায়।
প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে ভোটারদেরকে প্রার্থীদের আর্থিক স্বচ্ছতা সম্পর্কে সচেতন করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দায়িত্বশীলতা বাড়ানো লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এই ধরনের তথ্য প্রকাশনা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ ও নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর হার হ্রাস পেয়েছে বলে ধারণা করা যায় যে, প্রার্থীদের আর্থিক যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শক্তিশালী হয়েছে অথবা প্রার্থীরা আর্থিক দায়বদ্ধতা কমিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের চেষ্টা করছেন। তবে এই প্রবণতা কীভাবে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সামগ্রিকভাবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় এক-চতুর্থাংশ প্রার্থী ঋণগ্রহীতা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে, এবং এ তথ্য ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপকরণ সরবরাহ করবে। নির্বাচনের পরবর্তী ধাপে প্রার্থীদের আর্থিক দায়বদ্ধতা নিয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণ বাড়তে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।



