ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটাধিকার ও অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, কারণ ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন নির্ধারিত হয়েছে। নির্বাচনের ঘোষণা থেকে দেশীয় ও বিদেশি উভয় প্রান্তে রাজনৈতিক আলোচনার তীব্রতা বাড়ছে, এবং লন্ডনের কিছু ক্যাফেতে এই বিষয়ের ওপর তীব্র বিতর্ক দেখা যায়।
হোয়াইটচ্যাপেল রোডের ক্যাসাব্লাঙ্কা ক্যাফেতে শোবার ঘরে গরম চা হাতে বসে বিশ্লেষক খালেদ নূর, উজ্জ্বল আলোয় ঝলমলে কাচের কাউন্টার এবং গ্রিলের গন্ধের মাঝখানে, আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এখনো সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় হল কীভাবে বিদেশে বসবাসকারী ভোটাররা ভোট দিতে পারবে।
“নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই এ নিয়ে মানুষের কথা আর থামছেই না,” খালেদ নূর বলেন। তিনি আরও যোগ করেন, “কয়েক মাস হলো বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনই তাঁদের আলোচনার প্রধান বিষয়।” তার মন্তব্যে স্পষ্ট হয় যে প্রবাসী সম্প্রদায়ের ভোটার নিবন্ধন ও অংশগ্রহণ এখন রাজনৈতিক এজেন্ডার কেন্দ্রে।
এই নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে, যা শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত। দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো এই ভোটকে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ পূর্বের নির্বাচনগুলোতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ সীমিত ছিল এবং দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠে আসত।
বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মধ্যে কেন্দ্রীভূত। শেখ হাসিনা, যিনি বহু মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি, তার শাসনামলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়ন উল্লেখযোগ্য হলেও, কর্তৃত্ববাদ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও বাড়ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, দলকে পুনর্গঠন ও ভোটার অধিকার নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশ করছেন।
গত দশকে নির্বাচনের সময় কঠোর শর্ত আর বিরোধী দলের বর্জনের অভিযোগের ফলে বহু ভোটার কেন্দ্র থেকে দূরে সরে গিয়েছেন। এই পরিস্থিতি বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে দেয়, কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার থেকে কার্যত বঞ্চিত ছিলেন। ফলে, প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
এই সমস্যার সমাধানে লন্ডনে ২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি প্রচারাভিযান চালু করা হয়। অভিযানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধনে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করা হয়, এবং ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত করার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি তোলা হয়। ক্যাফে ও মসজিদে একত্রিত হয়ে আলোচনা করা হয় কীভাবে ভোটার কার্ড পাওয়া যাবে এবং ভোটদান পদ্ধতি কী হবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়, তবে তা নির্বাচনের ফলাফলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এখনই স্পষ্ট সময়সীমা ও পদ্ধতি নির্ধারণ করে ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে হবে। পরবর্তী ধাপে ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত করা, ভোটদান কেন্দ্রের স্থাপন এবং ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।



