25.4 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিহবিগঞ্জের নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের শোক ও নেতৃত্বের সমালোচনা

হবিগঞ্জের নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের শোক ও নেতৃত্বের সমালোচনা

শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১১ টায় হবিগঞ্জের নিউ ফিল্ড মাঠে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সমাবেশে তার শহীদ ভাইয়ের ত্যাগের কথা স্মরণ করে দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সমাবেশে তার বক্তব্যের সূচনা হয় নিজের ভাইয়ের ত্যাগের উল্লেখ দিয়ে, “আমার যে ভাই জীবন দিয়েছেন, আমি বিশ্বাস করি এমন বাংলাদেশের চিত্র দেখলে তিনি হয়ত সেদিন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন না।” এই মন্তব্যে তিনি বর্তমান দেশের চিত্রকে মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের সঙ্গে তুলনা করে গভীর শোক প্রকাশ করেন।

এরপর তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের মূল্যায়ন করে প্রশ্ন তুলেন, “জীবন বাজি রেখে, জীবন দিয়ে যারা আমাদেরকে ঋণী করে গেলেন তাদের প্রতি এ দেশ, জাতি, রাজনৈতিক দল আর নেতৃবৃন্দ কী সম্মান দেখালো?” তিনি উল্লেখ করেন যে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ছিল ন্যায় ও সাম্যের বাংলাদেশ, যেখানে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, শিক্ষিত সন্তান এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে।

শফিকুর রহমান বলেন, “তাদেরতো স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায় ও সাম্যের বাংলাদেশ তারা কায়েম করবেন। মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে। সন্তানরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। আসলে কিছুই হলো না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই স্বপ্নের বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

কেন স্বপ্ন পূরণ হয়নি, এ প্রশ্নের উত্তর তিনি সাধারণ জনগণের দায়িত্বে না রাখেন। “কার কারণে হলো না? এর জন্য কি সাধারণ জনগণ দায়ী? অবশ্যই না,” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ফলে দায়িত্বের দায়িত্বশীলতা দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর তুলে ধরেন।

তারপর তিনি নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে বিশ্লেষণ করেন, “দফায় দফায় যারা দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন, ভালো যদি কিছু করে থাকেন এটিও তাদের কৃতিত্ব। অপকর্ম যদি কিছু থাকেন তারও দায় তাদের।” তিনি স্বীকার করেন যে কিছু নেতার কাজের প্রশংসা করা যায়, তবে ভুলের দায়ও তাদেরই।

শফিকুর রহমান বলেন, “কেউ কোনো কিছু ভালো করেনি তা আমি বলবো না।” তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কিন্তু যে দেশের মানুষের হাতের ছোঁয়ায় দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষের কপাল বদলে যায়, সে দেশের মানুষের কপাল বদলায় না কেন?” এই তুলনা দিয়ে তিনি দেশের মানুষের অবস্থার স্থবিরতা তুলে ধরেন।

অবশেষে তিনি মূল কারণ হিসেবে “অসৎ নেতৃত্ব” উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এই না বদলানোর মূল কারণ হলো অসৎ নেতৃত্ব,” যা দেশের উন্নয়ন ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করেছে।

বক্তৃতার সময় তিনি জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান ও ১১ দলীয় জোটের সমাবেশের গুরুত্বের ওপরও আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই সমাবেশে বিভিন্ন দল একত্রিত হয়ে দেশের বর্তমান সমস্যার সমাধান ও ভবিষ্যৎ নীতি নিয়ে আলোচনা করবে।

শফিকুর রহমানের এই মন্তব্যগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা তার বক্তব্যের প্রতি সম্মানসূচক সাড়া দিয়েছেন, তবে কোনো সরাসরি বিরোধিতা করেননি।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে এই ধরনের সমালোচনা জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশলে নতুন দিক যোগ করতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে। শফিকুরের নেতৃত্বের সমালোচনা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের প্রতি সম্মান জোর দিয়ে, তিনি পার্টির ভোক্তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন।

সমাবেশের পরবর্তী পর্যায়ে জামায়াতের অন্যান্য নেতারা অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেছেন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। শফিকুর রহমানের বক্তব্যের প্রভাব কীভাবে পার্টির ভোটাভুটি ও জনমতকে প্রভাবিত করবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments