থাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক ও ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত জলসম্পদ মন্ত্রী ছিলেন রমেশ চন্দ্র সেন, আজ সকাল প্রায় ৯ টার দিকে দিঘি জেল থেকে দিঘি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেন।
সেন ৮৪ বছর বয়সী, জেলখানায় সকালে অস্বস্তি বোধ করেন এবং দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরিত হন। দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক প্রায় ৯ঃ৩০ টায় তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
দিঘি জেল সুপারিন্টেন্ডেন্ট ফারহাদ সরকার ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, সেনকে ১৭ আগস্ট জেলে পাঠানো হয়েছিল, যা তার গ্রেফতারের পরের দিন।
সেনকে ১৬ আগস্ট মধ্যরাতে রুহিয়া রামনাথ গ্রামে তার পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়, এবং পরের দিন দিঘি জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি জেলে ‘ডিভিশন-প্রিজনার’ হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন।
জেল কর্তৃপক্ষের মতে, সেনের স্বাস্থ্যের অবস্থা আগে থেকেই দুর্বল ছিল এবং তিনি দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছিলেন।
সকাল প্রায় ৯ টার দিকে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা হঠাৎ খারাপ হয়ে যায়, ফলে তাকে জরুরি সেবার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল থেকে জানানো হয় যে, রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
সেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতেন এবং পার্টির উচ্চপদস্থ সদস্যদের মধ্যে ছিলেন।
তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত জলসম্পদ মন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে দেশের জলসম্পদ নীতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারি ১৮ তারিখে থাকুরগাঁও-১ থেকে বায়-ইলেকশন দিয়ে, এরপর ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে জয়লাভ করেন।
২০২৪ সালের ব্যাপক প্রতিবাদ আন্দোলনের পর, সেনকে মধ্যরাতে গ্রেফতার করা হয় এবং পরের দিন জেলে পাঠানো হয়।
জেলে থাকা অবস্থায় তিনি তিনটি মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন, যার মধ্যে একটি মামলায় তাকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সেনের মৃত্যুর পর শোক প্রকাশ করে এবং পার্টির সকল স্তরে সমবেদনা জানায়।
সেনের মৃত্যু পার্টির অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, বিশেষ করে থাকুরগাঁও-১ এলাকার রাজনৈতিক সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা বাড়বে।
অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করেন, সেনের দীর্ঘমেয়াদী নির্বাচনী সাফল্য ও পার্টির মধ্যে তার প্রভাবের কারণে তার অকাল মৃত্যু পার্টির সংগঠনগত পুনর্গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, জেল কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুসারে, সেনের স্বাস্থ্যের অবনতি হঠাৎ ঘটেছিল এবং কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার সূত্র পাওয়া যায়নি।
সেনের পরিবার এবং সমর্থকরা এখনো শোকমুক্তি প্রকাশের জন্য সময় নিচ্ছেন, এবং পার্টি নেতৃত্বের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্যের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



