শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধরের পিতা, মীর মোস্তাফিজুর রহমান, হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়ে হাসপাতালে সিটিআইউতে ভর্তি হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ৬ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবারের রাতের দিকে, যখন তিনি বাড়িতে ছিলেন। জরুরি সেবা দল দ্রুত তাকে নিকটস্থ চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে জরুরি হৃদয় রক্ত সঞ্চালন ও পর্যবেক্ষণ শুরু করে।
মীর মোস্তাফিজুর রহমানের অবস্থা বর্তমানে সিটিআইউতে তীব্র পর্যবেক্ষণের অধীনে রয়েছে। চিকিৎসা দল তাকে ইসিজি, রক্তের এনজাইম পরীক্ষা এবং রক্তচাপ পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন মানক প্রোটোকল অনুসারে পরিচালনা করছেন। হৃদরোগের প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে অ্যান্টিপ্লেটলেট ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা রোগীর রক্তের গঠন ও হৃদয়ের কাজকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
হার্ট অ্যাটাকের মূল কারণ সাধারণত করোনারি ধমনীতে রক্তের জমাট বাঁধা, যা হৃদয়ের পেশীকে অক্সিজেন সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে। এই ধরনের অবস্থা দ্রুত সনাক্ত না হলে হৃদয়ের পেশী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে। তাই, রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপের ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ জরুরি, যা মীর মোস্তাফিজুর রহমানের বর্তমান চিকিৎসা পরিকল্পনার অংশ।
পরিবারের পক্ষ থেকে তথ্য প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন মুগ্ধরের বড় ভাই, মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। তিনি নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক প্রোফাইলে ৬ ফেব্রুয়ারি রাতের দিকে পোস্ট করে পিতার অবস্থার নিশ্চিতকরণ করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “আজ সারাদিন বাবা বারবার মুগ্ধরের কথা বলছেন, প্রথম কোলে নেওয়ার মুহূর্তের কথা স্মরণে চোখে জল টলমল করছিল।” এই প্রকাশনা থেকে বোঝা যায়, পিতার শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও তিনি মানসিকভাবে দৃঢ় এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করছেন।
স্নিগ্ধের পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, “ঘুমানোর আগে প্রায় ত্রিশ মিনিট ধরে আমাকে বোঝালেন, যাই হোক কখনো হার মানবে না।” এই বাক্যটি পিতার আত্মবিশ্বাস ও সংকল্পের প্রতিফলন, যা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আশার সঞ্চার করে। তিনি শেষের দিকে লিখে, “মনে করিয়ে দিলেন আমাদের জবাবদিহি আল্লাহর কাছেই,” এবং সকলকে পিতার জন্য দোয়া করার অনুরোধ করেন।
চিকিৎসা সংক্রান্ত দৃষ্টিকোণ থেকে, হৃদরোগের রোগীদের জন্য নিয়মিত রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং রক্তের গ্লুকোজের পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হৃদয়ের রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, তাই সঠিক ডায়েট, নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ এবং ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল পরিহার করা প্রয়োজন। মীর মোস্তাফিজুর রহমানের ক্ষেত্রে, দ্রুত সিটিআইউতে ভর্তি হওয়া তার পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
হাসপাতালের সিটিআইউতে রোগীর যত্নে বিশেষজ্ঞ দল রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাসের রেট, রক্তের অক্সিজেন স্তর এবং হৃদয়ের ইলেকট্রিক্যাল কার্যকলাপের রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ করে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভেন্টিলেটর সহায়তা, রক্তের তরল সামঞ্জস্য এবং রক্তের জমাট রোধের জন্য অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট ব্যবহার করা হয়। এই সমন্বিত পদ্ধতি রোগীর হৃদয়ের কাজকে স্থিতিশীল রাখতে এবং সম্ভাব্য জটিলতা কমাতে সহায়তা করে।
পরিবারের প্রকাশ্য বার্তা থেকে দেখা যায়, রোগীর মানসিক অবস্থা ও পারিবারিক সমর্থন রোগের পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, আত্মীয়-স্বজনের সমর্থন ও ইতিবাচক মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি রোগীর শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক। স্নিগ্ধের পোস্টে পিতার দৃঢ়তা ও দায়িত্বের কথা উল্লেখ করা এই দিকটি তুলে ধরেছে।
মীর মোস্তাফিজুর রহমানের বর্তমান অবস্থার আপডেটের ভিত্তিতে, চিকিৎসা দল তার হৃদয়ের কার্যক্রমের ধারাবাহিক মূল্যায়ন চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে থেরাপি সমন্বয় করবে। রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ধীরে ধীরে সিটিআইউ থেকে সাধারণ ওয়াক-ইন ইউনিটে স্থানান্তর করা হবে, যেখানে পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদী ওষুধের পরিকল্পনা নির্ধারিত হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, হৃদরোগের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ যেমন বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঘাম ঝরানো, বমি বমি ভাব বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া উচিত। সময়মত সাড়া দিলে হৃদয়ের ক্ষতি কমে এবং বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে।
পরিবারের দোয়া ও সমর্থনের সঙ্গে, মীর মোস্তাফিজুর রহমানের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হচ্ছে। রোগীর শারীরিক ও মানসিক পুনরুদ্ধারকে সমর্থন করার জন্য, পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে ইতিবাচক পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাবার এবং সক্রিয় জীবনধারা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া যায়।



