25.4 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাইউএস পেন্টাগন হার্ভার্ডের সঙ্গে একাডেমিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্নের সিদ্ধান্ত জানাল

ইউএস পেন্টাগন হার্ভার্ডের সঙ্গে একাডেমিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্নের সিদ্ধান্ত জানাল

ইউএস পেন্টাগন ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সব ধরনের একাডেমিক সহযোগিতা শেষ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে পেন্টাগন হার্ভার্ডের ‘ওক’ বা অতিরিক্ত উদারপন্থী মতাদর্শ প্রচারকে উল্লেখ করেছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চলমান সামরিক শিক্ষা, ফেলোশিপ এবং সার্টিফিকেট কোর্সের দীর্ঘদিনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।

পেন্টাগন ও হার্ভার্ডের সহযোগিতা বহু বছর ধরে চলেছে; সামরিক কর্মকর্তা ও গবেষকরা এখানে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতেন। ঐতিহ্যগতভাবে পেন্টাগন থেকে নির্বাচিত শীর্ষ কর্মকর্তারা হার্ভার্ডের বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে দক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ পেতেন। এই পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে দু’পক্ষই একে অপরের থেকে উপকৃত হচ্ছিল।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিবৃতিতে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, পেন্টাগন দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের সেরা ও মেধাবী কর্মকর্তাদের হার্ভার্ডে পাঠিয়েছে, যাতে তারা সামরিক কাজের গুরুত্ব ও মূল্য বুঝতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, অনেক কর্মকর্তা হার্ভার্ডের ‘রঙে রঞ্জিত’ হয়ে ফিরে আসছেন, যা পেন্টাগনের প্রত্যাশার বিপরীত। হেগসেথের মতে, এই বিচ্ছেদটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার দিক থেকে সামরিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনতা থেকে উদ্ভূত।

বিচ্ছেদের কার্যকরী তারিখ ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নির্ধারিত হয়েছে। বর্তমানে যারা পেন্টাগনের সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে হার্ভার্ডে অধ্যয়নরত, তারা তাদের কোর্স সম্পন্ন করার সুযোগ পাবে। নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্র-সদস্যদের জন্য আর কোনো নতুন প্রোগ্রাম চালু হবে না। এই পরিবর্তনটি ভবিষ্যতে পেন্টাগনের শিক্ষামূলক পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলবে।

হেগসেথ এক্স (পূর্বে টুইটার) প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘হার্ভার্ড হলো ‘ওক’, কিন্তু যুদ্ধ দপ্তর (ইউএস পেন্টাগন) তা নয়।’ তিনি এই মন্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শিক দিককে পেন্টাগনের মিশনের সঙ্গে তুলনা করে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। পোস্টটি দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন মতামত উত্থাপন করে।

ইউএস পেন্টাগন একই সঙ্গে আইভি লিগের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্কও পুনর্মূল্যায়ন করবে বলে জানিয়েছে। পেন্টাগন এখন এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা নিজের গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের তুলনায় কতটা সাশ্রয়ী ও মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারে তা যাচাই করবে। এই পর্যালোচনা ভবিষ্যতে সামরিক কর্মকর্তাদের শিক্ষার বিকল্প হিসেবে কোন প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে তা নির্ধারণে সহায়তা করবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ নিজেও আইভি লিগের প্রাক্তন ছাত্র; তিনি প্রিন্সটন ও হার্ভার্ড থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে সূত্র অনুযায়ী, তিনি হার্ভার্ডের ডিগ্রি ফেরত পাঠিয়েছেন, যা তার বর্তমান অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলেছে। তার শিক্ষাগত পটভূমি ও বর্তমান সিদ্ধান্তের মধ্যে এই পারস্পরিক সম্পর্কটি পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা হার্ভার্ডসহ অন্যান্য কলেজকে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের সময় ইহুদি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা ও বড় জরিমানা দাবি করছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পেন্টাগনের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক চাপের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হার্ভার্ডের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এবং বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এই ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকে একাডেমিক স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাধীনভাবে গবেষণা ও শিক্ষাদানের অধিকার রক্ষা করা উচিত, যাতে কোনো বাহ্যিক চাপ শিক্ষার গুণগত মানকে প্রভাবিত না করে।

পাঠকগণ যদি এই পরিবর্তনটি তাদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বা শিক্ষার পছন্দে প্রভাব ফেলে, তবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা জরুরি। আপনি কি মনে করেন, সামরিক প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার এই নতুন দিকনির্দেশনা আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কী প্রভাব ফেলবে?

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments