ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটাল (NINS)-এ ১১ জানুয়ারি মিয়ানমার থেকে বন্য গুলিতে আহত ৯ বছর বয়সী হুজাইফা আফনান আজ সকাল ৯:৪৫টায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু সম্পর্কে পরিবারে জানানো হয়েছিল যে হৃদপিণ্ডের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং চিকিৎসা দল তাকে জীবিত রাখার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
হুজাইফার চাচা শৌকত আলি জানান, ডাক্তাররা সকালে জানিয়ে দেন যে রোগীর হৃদযন্ত্র আর কাজ করছে না এবং পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। রোগী পূর্বে জীবন্ত সমর্থনে (লাইফ সাপোর্ট) রাখা ছিল, তবে অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটায়।
হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক হুমায়ুন কবিরও হুজাইফার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে গুলিটি তার গলায় আটকে ছিল এবং তা সরাতে ব্যর্থ হওয়ায় রক্তনালীর ক্ষতি হয়, যার ফলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়ে স্ট্রোকের আঘাত লেগে যায়।
গুলির প্রভাব মস্তিষ্কে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, ফলে রোগীকে যান্ত্রিক শ্বাসযন্ত্র (মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন) ব্যবহার করতে হয় এবং মস্তিষ্কের চাপ কমাতে ওষুধ প্রদান করা হয়। চিকিৎসা দল গুলিটি অপসারণের চেষ্টা করলেও তা গলায় গভীরভাবে আটকে থাকায় সফল হয়নি।
হুজাইফা আফনান তেচি ব্রিজ, হুইকং ইউনিয়নের একজন তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তিনি মিয়ানমারের আরাকান সেনাবাহিনী ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের সময় বন্য গুলিতে আহত হন। এই সংঘর্ষটি দেশের উত্তর-পশ্চিমে দীর্ঘদিনের জাতিগত ও রাজনৈতিক উত্তেজনার অংশ।
আহত হওয়ার পর হুজাইফাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) তে ত্বরিত নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গুলিটি গলায় আটকে থাকা সত্ত্বেও অপসারণের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, ফলে রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে অতিরিক্ত চিকিৎসা করা হয়।
চিকিৎসা দল গুলির অবস্থান ও রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাসের অবস্থা বিবেচনা করে তাকে ঢাকার NINS-এ স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়। NINS-এ গৃহীত উচ্চতর স্নায়ু-চিকিৎসা সুবিধা ও মস্তিষ্কের চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ যন্ত্রপাতি রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়।
হুমায়ুন কবিরের মতে, গুলি গলায় আটকে থাকায় রক্তনালীর ক্ষতি মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ কমিয়ে দেয়, যা স্ট্রোকের কারণ হয়। রোগীর মস্তিষ্কে রক্তচাপ বাড়ার ফলে শ্বাসযন্ত্রের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক হয়ে ওঠে এবং চাপ কমাতে ওষুধের প্রয়োজন হয়।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে চলমান নিরাপত্তা উদ্বেগকে তীব্র করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সীমান্ত পারাপার গুলিবর্ষণ স্থানীয় শরণার্থী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ইতিমধ্যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট শরণার্থী সংকটের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ সরকার এই ধরনের বন্য গুলির ঘটনা মোকাবেলায় সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি শরণার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানানো হয় যে, মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সীমান্তে গুলিবর্ষণ রোধে যৌথ পর্যবেক্ষণ দল গঠন করা হবে।
হুজাইফার মৃত্যুর পর শরণার্থী সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে, তবে সরকারী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি দ্রুত মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসা সেবা প্রদানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই দুঃখজনক ঘটনা সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও মানবিক দায়িত্বের পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যতে সমন্বিত কূটনৈতিক ও মানবিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।



