১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্ধারিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, রোববার থেকে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য নির্বাচনকালীন কোনো সহিংসতা বা অবৈধ কার্যক্রমকে কঠোরভাবে দমন করা।
পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুসারে, নির্বাচনকেন্দ্রিক যে কোনো হিংসাত্মক ঘটনা দ্রুত ও কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে। এ নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি বাহিনীর সদস্য তাদের দায়িত্ব পালন করবে।
মোতায়েনের সূচনা রোববারের রাত থেকে, এবং মঙ্গলবারের মধ্যে সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মী জেলা ও উপজেলায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এভাবে নির্বাচনের পূর্বে প্রতিটি প্রশাসনিক স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
১৯ জুলাই থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সারা দেশে মোতায়েন রয়েছে। তারা অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রেফতার এবং সহিংসতা রোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা পরিবেশকে স্থিতিশীল রাখা হচ্ছে।
নির্বাচনকালীন সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, পুলিশ, র্যাব, কোস্ট গার্ড ও আনসারসহ সকল নিরাপত্তা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে। প্রতিটি সংস্থার প্রধানগণ আইন অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
বৈশিষ্ট্যপূর্ণভাবে, দুই দিনব্যাপী একটি ‘সারপ্রাইজ’ অভিযান পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা একসঙ্গে দেশব্যাপী চালু হবে। নির্দিষ্ট তারিখ বা সময় প্রকাশ করা হয়নি; যেকোনো সময়ে এই অভিযান শুরু হতে পারে। অভিযানে অপরাধী, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, খুনি, মাদক ব্যবসায়ী এবং অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হবে।
অধিকাংশ কর্মকর্তার মতে, এই অভিযান নির্বাচনের সময় কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বা বিশৃঙ্খলা ঘটার সম্ভাবনা কমিয়ে দেবে। নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র উপস্থিতি ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল ও নেতা নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর কাজ ন্যায়সঙ্গত ও পক্ষপাতহীন হওয়া দরকার, এবং তারা এই প্রক্রিয়ার পর্যবেক্ষণ করবে।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন ক্যাম্প, সেনা ও পদাতিক ডিভিশন পরিদর্শন করেছেন। তিনি উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা সংস্থার নেতাদের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
পর্যবেক্ষণে তিনি আন্তঃপ্রতিষ্ঠানিক সমন্বয়, সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পরিচালনার গুরুত্ব জোর দিয়ে বলেছেন। পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং নাগরিক বান্ধব আচরণকে মূল দিকনির্দেশনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম. নাজমুল হাসান উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে গিয়েছেন। তিনি সমুদ্রসীমা রক্ষার পাশাপাশি নির্বাচনের সময় সমুদ্রপথে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিশ্চিত করেছেন।
সামগ্রিকভাবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েন এবং ‘সারপ্রাইজ’ অভিযান নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। এই ব্যবস্থা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার ভিত্তি তৈরি করবে।



