মন্ত্রিপরিষদ কৃষি বিভাগ সম্প্রতি ছয়টি নতুন ধান জাতের অনুমোদন জানিয়ে দেশব্যাপী চাষের জন্য প্রস্তুত করেছে। এই পদক্ষেপটি উৎপাদন বাড়িয়ে জনসংখ্যার বাড়তে থাকা খাদ্য চাহিদা পূরণে সহায়তা করার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে। নতুন জাতগুলো বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (BRRI) এর গবেষণায় তৈরি এবং এর মধ্যে দুইটি হাইব্রিড জাত অন্তর্ভুক্ত।
অনুমোদিত ধান জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি ভিটামিন‑ই সমৃদ্ধ জাত, একটি লবণ সহনশীল জাত এবং একটি ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী জাত। এছাড়া হাওর অঞ্চলের জন্য উপযোগী একটি শীত সহনশীল জাত এবং দুটো হাইব্রিড জাত রয়েছে, যেগুলো গাছের ভাঁজে (লড্ডিং) প্রতিরোধী হিসেবে বিকাশিত। এই অনুমোদনের ফলে BRRI এখন পর্যন্ত মোট ১২৭টি ধান জাতের গবেষণা ও উন্নয়ন সম্পন্ন করেছে।
নতুন জাতগুলোর মধ্যে BRRI ধান ১১৫ প্রথম উচ্চ ফলনশীল কালো ধান হিসেবে পরিচিত, যা অ্যান্থার কালচার পদ্ধতিতে তৈরি এবং ভিটামিন‑ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। গড় ফলন প্রায় ৭.৪ টন প্রতি হেক্টর, এবং এর অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৩ শতাংশ।
BRRI ধান ১১৬ হল বোরো মৌসুমের জন্য উচ্চ ফলনশীল দেরি মচু জাত, যার দানা মাঝারি-স্লিম এবং BRRI ধান ৯২ এর তুলনায় সরু। গাছের কাঠামো শক্তিশালী, ফলে গাছের ভাঁজে প্রতিরোধী। দশটি অঞ্চলে পরিচালিত ফলন পরীক্ষায় এই জাতের ফলন BRRI ধান ৯২ এর তুলনায় ১৩.৭৫ শতাংশ বেশি হয়েছে। গড় ফলন ৮.৫৯ টন প্রতি হেক্টর, এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা ও উপযুক্ত শর্তে সর্বোচ্চ ১০.৩৬ টন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
BRRI ধান ১১৭ সংক্ষিপ্ত সময়ের বোরো মৌসুমের জন্য লবণ সহনশীল এবং ব্লাস্ট রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী। গড় ফলন ৮.৬ টন প্রতি হেক্টর, এবং সঠিক যত্নে ৯.৯০ টন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। দানার আকার মাঝারি, মোটা এবং স্বর্ণালী রঙের, যার অ্যামাইলোজ ২৪.২ শতাংশ এবং প্রোটিন ৯.৩ শতাংশ।
শীত সহনশীল জাত BRRI ধান ১১৮ হাওর অঞ্চলের জন্য বিশেষভাবে তৈরি, যেখানে প্রজনন পর্যায়ে শীতের প্রভাব কমে যায়। এই বৈশিষ্ট্যের ফলে ফসলের বপন সময় আগেভাগে করা সম্ভব, যা হাওরের আকস্মিক বন্যা থেকে ফসল রক্ষা করতে সহায়তা করে।
মন্ত্রিপরিষদ কৃষি বিভাগের এই সিদ্ধান্তের পেছনে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং ধান উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করা অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। নতুন জাতগুলো জাতীয় পর্যায়ে অনুমোদিত হওয়ায় কৃষকরা এখন এই উন্নত বৈশিষ্ট্যযুক্ত ধান চাষের সুযোগ পাবেন, যা উচ্চ ফলন, রোগ ও পরিবেশগত চাপের প্রতি প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।
এই নতুন ধান জাতগুলো বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সঠিক চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যায়। সরকারী পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই জাতগুলোকে প্রথমে বোরো মৌসুমে এবং হাওর অঞ্চলে প্রচার করা হবে, এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য মৌসুমে বিস্তৃত করা হবে।
উন্নত বৈশিষ্ট্যযুক্ত ধান জাতের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হবে, এবং ফলন পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে আরও নতুন জাতের উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়া হবে।
আপনার কৃষি জমিতে কোন ধান জাতের চাষ সবচেয়ে উপযোগী হবে, তা নির্ধারণের জন্য স্থানীয় কৃষি অফিসের সঙ্গে পরামর্শ করা এবং নতুন জাতের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ।



