একজন যুবক, যাকে এডিটোরিয়াল উদ্দেশ্যে এরিক (ছদ্মনাম) বলা হয়েছে, অনলাইন পর্ন সাইটে প্রবেশের পর হঠাৎ করে অজানা গোপন ক্যামেরা দ্বারা রেকর্ড হওয়ার অভিযোগে দিশেহারা হয়ে পড়েন। ঘটনাটি বিবিসির অনলাইন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে এবং একই সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে রেকর্ডিং প্রায় এক ঘণ্টা পর্যন্ত চলেছে।
এরিকের মতে, তিনি যখন সাইটে প্রবেশ করলেন, তখনই হোটেলের গোপন স্পাই ক্যামেরা সক্রিয় হয়ে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো ধারণ করে। রেকর্ডিংয়ের সময় তিনি অস্বস্তি ও বিভ্রান্তি অনুভব করেন, যা পরবর্তীতে তার মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে।
বিবিসি প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, রেকর্ডিংয়ের পর কয়েক সপ্তাহের জন্য ওই দম্পতি একে অপরের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি। ল্যাডবাইবেলের তথ্য অনুযায়ী, দুজনেই এখন বাইরে যাওয়ার সময় মাথায় ক্যাপ পরিধান করেন যাতে পরিচয় গোপন থাকে।
এরিকের ঘটনা একক নয়; বিবিসি জানিয়েছে যে চীনের বিভিন্ন হোটেলে একই রকম গোপন ক্যামেরা ব্যবহার করে বহু তরুণ-তরুণীকে শিকার করা হয়েছে। এই ধরনের শিকারীরা প্রায়শই হোটেল কক্ষের গোপন রেকর্ডিংয়ের পরপরই অনলাইন পর্ন সাইটে তাদের ভিডিও প্রকাশের শিকার হন।
চীনে গোপন ক্যামেরা ব্যবহার করে পর্ন ব্যবসা দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় রয়েছে। যদিও দেশীয় আইন অনুযায়ী পর্নোগ্রাফি উৎপাদন ও বাণিজ্যিক বিতরণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ, তবুও কিছু হোটেল গোপনে ক্যামেরা বসিয়ে অতিথিদের অপ্রকাশ্য মুহূর্ত রেকর্ড করে থাকে।
রেকর্ড করা ভিডিওগুলোকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করা হয় এবং কিছু সাইটে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা থাকে। হোটেল কক্ষের দরজা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যায়, ফলে অতিথির অজান্তেই রেকর্ডিং হয়।
চীনের আইনগত কাঠামো স্পষ্টভাবে গোপন ক্যামেরা ব্যবহার এবং অবৈধ পর্নোগ্রাফি উভয়কে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। তবে বাস্তবে এই ধরনের অপরাধের তদন্ত ও শাস্তি প্রয়োগে প্রায়শই জটিলতা দেখা দেয়, কারণ শিকারীরা প্রায়শই ভয় ও লজ্জার কারণে অভিযোগ না করার প্রবণতা রাখে।
বিবিসি উল্লেখ করেছে যে বর্তমান সময়ে চীনের সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গোপন ক্যামেরা ব্যবহারকারী হোটেল ও অনলাইন সাইটগুলোকে লক্ষ্য করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সম্ভাব্য অপরাধে জড়িত হোটেল মালিক, সাইট পরিচালনাকারী এবং রেকর্ডিং সরঞ্জাম সরবরাহকারীকে আইনি দায়িত্বের মুখে আনা হতে পারে।
শিকারদের জন্য বিশেষজ্ঞরা গোপন ক্যামেরা সংক্রান্ত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং সন্দেহজনক হোটেল বা অনলাইন সেবা ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশাপাশি, শিকারদের দ্রুত আইনগত সহায়তা নেওয়া এবং প্রমাণ সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ভবিষ্যতে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা যায়।



