26.9 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতি১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের আয় বিশ্লেষণ: ৪১% স্বল্প আয়, শীর্ষে ৬...

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের আয় বিশ্লেষণ: ৪১% স্বল্প আয়, শীর্ষে ৬ কোটি থেকে ৬০ কোটি টাকা

সপ্তাহের প্রথম দিন, শনিবার সকালবেলা জাতীয় প্রেসক্লাবে সুজনের আয় সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপনের জন্য একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ২,২৬৬ প্রার্থীর মধ্যে আয়ের বৈষম্য প্রকাশিত হয়েছে, যা ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোট প্রার্থীর ৪১ শতাংশ, অর্থাৎ ৮৩২ জনের বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ টাকার নিচে। অন্যদিকে, ৯৫ জনের আয় এক কোটি টাকার বেশি, যা দেশের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় আর্থিক বৈষম্যের মাত্রা তুলে ধরে।

এই তথ্য সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকারের দ্বারা উপস্থাপিত হয়। সম্মেলনে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ এবং অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

উচ্চ আয়কারী প্রার্থীদের তালিকায় মোট দশজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ছয়জনের পার্টি সংযুক্তি বিএনপি এবং বাকি চারজন স্বতন্ত্র বা ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ থেকে। তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে কুমিল্লা‑৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী জাকারিয়া তাহের, যাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ষাট কোটি টাকা।

দ্বিতীয় স্থানে টাঙ্গাইল‑১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আসাদুল ইসলাম, যাঁর আয় প্রায় চল্লিশ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে রয়েছে লক্ষ্মীপুর‑১ আসনের ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ প্রার্থী জাকির হোসেন পাটওয়ারী, যাঁর বার্ষিক আয় প্রায় উনিশ কোটি টাকা।

চতুর্থ স্থানে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের নাম রয়েছে, যাঁর আয় নয় কোটি টাকার বেশি। পঞ্চম স্থানে টাঙ্গাইল‑৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর, যাঁর আয় আট কোটি টাকার উপরে।

বাকি পাঁচজন প্রার্থীর আয় চার থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকার মধ্যে। এদের মধ্যে কক্সবাজার‑১ আসনের বিএনপি প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ, কুমিল্লা‑৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. জসীম উদ্দিন, নেত্রকোনা‑১ আসনের বিএনপি প্রার্থী কায়সার কামাল, চট্টগ্রাম‑১৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী এবং কুমিল্লা‑৭ আসনের বিএনপি প্রার্থী রেদওয়ান আহমেদ অন্তর্ভুক্ত।

তালিকায় দেখা যায়, শীর্ষ দশের মধ্যে ছয়জনের পার্টি সংযুক্তি বিএনপি, তিনজন স্বতন্ত্র এবং একজন ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ। এই বিভাজন প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থার পার্থক্যকে রাজনৈতিক পার্টির প্রোফাইলের সঙ্গে যুক্ত করে।

সুজনের তথ্য প্রকাশের লক্ষ্য হল ভোটারদের প্রার্থীদের আর্থিক স্বচ্ছতা সম্পর্কে অবহিত করা, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আর্থিক ক্ষমতার প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। বিশেষত, স্বল্প আয়ের প্রার্থীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ভোটাররা তাদের সামাজিক-অর্থনৈতিক পটভূমি বিবেচনা করে ভোট দিতে পারেন।

নির্বাচন কমিশনও এই ধরনের তথ্যের ভিত্তিতে প্রার্থীদের আর্থিক প্রকাশের নিয়ম কঠোর করতে পারে। ভবিষ্যতে আর্থিক বিবরণীর যাচাই ও প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা বাড়তে পারে, যা রাজনৈতিক দলগুলোরও আর্থিক নীতি পুনর্বিবেচনার দিকে ধাবিত করতে পারে।

প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো ইতিমধ্যে এই তথ্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছে এবং নিজেদের প্রার্থীদের আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে, উচ্চ আয়কারী প্রার্থীদের আর্থিক স্বার্থ ও নীতি প্রণয়নের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণও চলমান।

সামগ্রিকভাবে, সুজনের এই আয় বিশ্লেষণ নির্বাচনের পূর্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করবে, যা ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে এবং দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আর্থিক স্বচ্ছতার গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments