মণোজ বাজপেয়ীর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা ‘ঘুষ্কর পণ্ডিত’ চলচ্চিত্রটি শিরোনাম নিয়ে তীব্র বিরোধের মুখে পড়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ব্যক্তিগতভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, পরিচালক, প্রযোজক এবং দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হোক। একই সঙ্গে দিল্লি হাইকোর্টে একটি পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন দায়ের করা হয়েছে, যেখানে শিরোনামকে বৈষম্যমূলক বলে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
যোগী আদিত্যনাথের এই নির্দেশনা সরকারী স্তরে বিষয়টি তীব্রতর করেছে, কারণ তিনি সরাসরি পুলিশের কাছে অনুরোধ করেছেন যে, চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত সকলকে আইনি দায়ের আওতায় আনা হোক। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, শিরোনামটি সমাজে বিদ্যমান গোষ্ঠীভিত্তিক বৈষম্যকে উস্কে দিতে পারে এবং তাই তা অবিলম্বে পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এই আদেশের পর উ.প্র.র পুলিশ বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে FIR দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
‘ঘুষ্কর পণ্ডিত’ শব্দের অর্থ ‘দুর্নীতিগ্রস্ত পণ্ডিত’ হলেও, শিরোনামটি প্রকাশের পর দেশব্যাপী প্রতিবাদ শুরু হয়। টিজার ট্রেলারটি ইউটিউব ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন শিরোনামকে কাস্টবাদী বলে দাবি করে। তারা দাবি করে যে, এই শিরোনামটি ব্রাহ্মণ গোষ্ঠীর গৌরবকে আঘাত করে এবং সমাজে বিদ্যমান গোষ্ঠীভিত্তিক মানসিকতা বাড়িয়ে দেয়।
জয়পুরের সার্বব্রাহ্মণ মহাসভা শিরোনামকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছে এবং বলেছে যে, এই বিতর্ক কেবল চলচ্চিত্রের বিষয় নয়, বরং সমাজের গঠনমূলক সমস্যার প্রতিফলন। মহাসভা উল্লেখ করেছে যে, শিরোনামটি গোষ্ঠীভিত্তিক বৈষম্যের একটি উদাহরণ এবং তা অবিলম্বে পরিবর্তন না করা হলে সামাজিক উত্তেজনা বাড়বে। তাদের মতে, চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু যাই হোক না কেন, শিরোনামটি সমাজের সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে না।
বিপিএল (ব্রাহ্মণ) সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য ভোপালে রাস্তায় নেমে শিরোনাম ও ট্রেলার সরিয়ে ফেলতে দাবি জানায়। তারা জানিয়েছে যে, যদি শিরোনাম পরিবর্তন না করা হয়, তবে তারা সমগ্র দেশে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে। প্রতিবাদকারীরা ট্রেলারকে অনলাইন থেকে মুছে ফেলতে এবং সমস্ত প্রচারমূলক সামগ্রী বন্ধ করতে আহ্বান জানায়। এই দাবিগুলি শিরোনামের পরিবর্তন না হলে জাতীয় পর্যায়ে বিশাল অশান্তি সৃষ্টির ইঙ্গিত দেয়।
দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের করা পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশনটি শিরোনামের বৈধতা ও সাংবিধানিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিরোনামটি ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর গৌরবকে আঘাত করে এবং তাই তা বাতিল করা উচিত। আদালত এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত রায় দেয়নি, তবে বিষয়টি দ্রুত বিচারাধীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সময়ে নেটফ্লিক্স প্ল্যাটফর্মটি টিজার ও প্রচারমূলক সামগ্রী সরিয়ে ফেলেছে। কোম্পানি জানিয়েছে যে, বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চলছে এবং তারা শিরোনাম পরিবর্তন বা চলচ্চিত্রের সম্পূর্ণ মুক্তি বাতিলের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। পূর্বে টিজারটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল, কিন্তু এখন তা সব প্ল্যাটফর্ম থেকে অদৃশ্য।
প্রাথমিকভাবে শিরোনাম পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, তবে নেটফ্লিক্সের অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী চলচ্চিত্রটি সম্পূর্ণভাবে তাদের স্লেট থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে চলমান আইনি চ্যালেঞ্জ এবং সামাজিক চাপকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদি চলচ্চিত্রটি নেটফ্লিক্সে না থাকে, তবে তার পরবর্তী বিতরণ ও প্রচার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, ‘ঘুষ্কর পণ্ডিত’ শিরোনাম নিয়ে উত্থাপিত বিতর্ক আইনগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্তরে বিস্তৃত হয়েছে। সরকারী হস্তক্ষেপ, আদালতের মামলা, ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিবাদ এবং নেটফ্লিক্সের পদক্ষেপ একসাথে চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। এই ঘটনাটি চলচ্চিত্রের শিরোনাম ও বিষয়বস্তু কীভাবে সামাজিক সংবেদনশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হবে, তা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূচনা করেছে।



