26.9 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্য২০২৬ সালে ৪.৫ মিলিয়ন মেয়ে ফেমেল জেনিটাল মিউটেশন ঝুঁকিতে, জাতিসংঘ সতর্ক করেছে

২০২৬ সালে ৪.৫ মিলিয়ন মেয়ে ফেমেল জেনিটাল মিউটেশন ঝুঁকিতে, জাতিসংঘ সতর্ক করেছে

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে যে ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন মেয়ে ফেমেল জেনিটাল মিউটেশন (FGM) এর ঝুঁকিতে রয়েছে। এই সংখ্যা পূর্বের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে এবং বিশেষত ছোট বয়সী মেয়েদের ওপর প্রভাব বেশি।

জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একত্রে আন্তর্জাতিক শূন্য সহনশীলতা দিবসে এই বিষয়টি তুলে ধরেছে। উভয় সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে ঝুঁকিতে থাকা মেয়েদের বেশিরভাগই পাঁচ বছরের নিচে।

ফেমেল জেনিটাল মিউটেশন বলতে বাহ্যিক নারী প্রজনন অঙ্গের সম্পূর্ণ বা আংশিক অপসারণকে বোঝায়। এই প্রক্রিয়া কিছু আফ্রিকান, মধ্যপ্রাচ্য ও এশীয় দেশের ঐতিহ্যগত বা ধর্মীয় প্রথা হিসেবে চালু রয়েছে।

প্রথাটি প্রায়শই ধর্মীয় বা সামাজিক রীতি হিসেবে যুক্তি দেওয়া হয়, যদিও বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। বিশেষ করে ছোট বয়সের শিশুরা এই প্রথার শিকার হয়ে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

সংযুক্ত জাতিসংঘের নারী সংস্থা (UN Women) উল্লেখ করেছে যে পাঁচ বছরের নিচের শিশুরা প্রায়ই এই অপারেশনের শিকার হয় এবং এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই সমস্যাগুলোতে রক্তক্ষরণ, সংক্রমণ, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং মানসিক আঘাত অন্তর্ভুক্ত।

প্রথাটি সাধারণত কিশোরী বয়সের আগেই সম্পন্ন করা হয়, যা কুমারত্ব রক্ষার মিথ্যা ধারণার ওপর ভিত্তি করে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে যে এই প্রথা কোনো যৌন নৈতিকতা বাড়ায় না, বরং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ২.৩০ কোটি নারী ও মেয়ে এই প্রথার শিকার হয়ে বেঁচে আছে। এদের অধিকাংশই প্রথা চালু থাকা দেশগুলোতে বসবাস করে।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা একত্রে বলছেন যে ফেমেল জেনিটাল মিউটেশন মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং কোনো ভিত্তিতে ন্যায়সঙ্গত করা যায় না। এই প্রথা নারী ও মেয়ের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে।

প্রথার ফলে সৃষ্ট জটিলতা গর্ভধারণে বাধা, যৌন সংক্রমণ এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ট্রমা অন্তর্ভুক্ত। এসব সমস্যার সমাধান না হলে জীবনের গুণগত মান হ্রাস পায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং অন্যান্য জাতিসংঘ সংস্থা এই প্রথার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে ভবিষ্যতে প্রতিটি মেয়ে ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

গত কয়েক দশকে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের মাধ্যমে কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে এই প্রচেষ্টা ধীরে ধীরে ফল দিচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের মতে, ১৯৯০ থেকে অর্জিত অগ্রগতির অর্ধেকই গত দশকে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে FGM-তে আক্রান্ত মেয়ের অনুপাত একে দুই থেকে একে তিনে কমে এসেছে।

এদিকে সংস্থাগুলো বেঁচে থাকা নারীদের জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক সহায়তা এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। এই সমর্থনগুলো প্রথার পরিণতি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফেমেল জেনিটাল মিউটেশন বন্ধ করার জন্য সমাজের সকল স্তরে সচেতনতা ও শিক্ষা অব্যাহত রাখা জরুরি। আপনি কি আপনার পরিচিতদের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন এবং প্রথা বন্ধের জন্য পদক্ষেপ নেবেন?

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments