ফ্রান্সের কনসাল জেনারেল জঁ‑নোয়েল পয়রিয়ে শুক্রবার গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকেতে কনসুলেটের দায়িত্ব গ্রহণ করে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্রিনল্যান্ডে প্রথম কনসুলেটিক অফিস হিসেবে কাজ করবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ফরাসি সরকার গ্রিনল্যান্ডে সরাসরি কূটনৈতিক সেবা প্রদান শুরু করেছে।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে পয়রিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কনসুলেটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে কনসুলেটের প্রতিষ্ঠা গ্রিনল্যান্ডে ফরাসি নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।
এই কনসুলেটের উদ্বোধনের পটভূমি হল ২০২৫ সালের জুনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গ্রিনল্যান্ড সফরের সময় যে ঘোষণা দিয়েছিলেন। ম্যাক্রোঁ তখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কনসুলার নেটওয়ার্ককে সম্প্রসারিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যার ফলস্বরূপ গ্রিনল্যান্ডে প্রথম ইইউ কনসুলেট স্থাপিত হয়েছে।
ম্যাক্রোঁর ঘোষণার পরপরই ইউরোপীয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়গুলো কনসুলার কাঠামোকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। গ্রিনল্যান্ডে কনসুলেটের উপস্থিতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই অঞ্চলে কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নতুন কনসাল জেনারেল গ্রিনল্যান্ডে বসবাসরত ফরাসি নাগরিকদের পাসপোর্ট, ভিসা, নথি প্রমাণ ইত্যাদি কূটনৈতিক সেবা প্রদান করবেন। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
কনসুলেটের কাজের মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলোর গভীরতা বাড়ানোও অন্তর্ভুক্ত। ফরাসি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্প সংস্থা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে সহায়তা করা হবে।
ফ্রান্স, ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর এই পদক্ষেপটি ভিত্তি করে। দুই দেশই ঐতিহাসিকভাবে একে অপরের সঙ্গে বহু যৌথ প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ, সামুদ্রিক গবেষণা এবং পর্যটন উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত।
ফরাসি সরকার ডেনমার্কের ভূখণ্ডিক অখণ্ডতার প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান জানিয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই অবস্থান কনসুলেটের কার্যক্রমে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ইইউ কনসুলেটের উপস্থিতি গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় নীতি ও কূটনৈতিক সংলাপের নতুন দিক উন্মোচন করবে। কনসুলেটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় সহজ হবে এবং অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডের স্বতন্ত্র স্বর শোনা যাবে।
প্রতিষ্ঠার পরপরই ফরাসি কনসুলেট গ্রিনল্যান্ডে চলমান প্রকল্পগুলোর ত্বরান্বিত বাস্তবায়ন, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টিতে এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কনসুলেটের কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় থাকবে।
ভবিষ্যতে ফরাসি কনসুলেট গ্রিনল্যান্ডে অতিরিক্ত কনসুলেট সেবা, যেমন বাণিজ্যিক মিশন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করতে পারে। এই ধরনের উদ্যোগগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্রিনল্যান্ডে দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করবে।
ফরাসি কনসুলেটের উদ্বোধন গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় কূটনৈতিক কাঠামোর একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে, যা উভয় পক্ষের জন্য কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সুবিধা নিয়ে আসবে।



