১০ম সংস্করণের আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে সহযোগী দেশগুলো আবারও নিজেদের পরীক্ষা করার সুযোগ পেয়েছে। ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর পাশাপাশি এক নতুন মুখ, ইতালি, এই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করবে।
ইতালির দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ওয়েইন ম্যাডসেন, এবং বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তারা ২৭ নম্বরে অবস্থান করছে। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে মাত্র ছয়টি টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তারা তিনটি জয় অর্জন করেছে, যা তাদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
ক্রিকেটের সীমান্তে থাকা একটি দেশে এই যোগ্যতা অর্জন করা ইতালির জন্য কেবল ফলাফল নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, নেপাল দলটি সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকতা দেখিয়ে আসছে। ক্যাপ্টেন রোহিত পাউডেল নেতৃত্বে তারা ২০২৪ সাল থেকে মোট চব্বিশটি ম্যাচের মধ্যে ষোলোটি জয়লাভ করেছে এবং র্যাঙ্কিংয়ে ১৬ নম্বরে রয়েছে। যদিও এখনো প্রথম রাউন্ডের বাইরে অগ্রসর হতে পারেনি, তবে তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স একটি সম্ভাব্য অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।
কানাডা দলটি একই পথে অগ্রসর হচ্ছে। দিলপ্রীত বাজওয়া কোচের তত্ত্বাবধানে তারা ২০২৪ সালের ডেবিউ থেকে পঁচিশটি ম্যাচের মধ্যে সতেরোটি জয় অর্জন করেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দ্রুত শিখতে পারার প্রমাণ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দলও ২০২৪ সালে সুপার ৮-এ অপ্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনের পর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। মনঙ্ক প্যাটেলের অধীনে তারা বিশটি ম্যাচের মধ্যে বারোটি জয় পেয়েছে এবং এখন আর কোনো হালকা দল হিসেবে বিবেচিত হয় না।
অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করা দলগুলোর মধ্যে রয়েছে নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়া, যারা ২০২১ সালের সুপার ১২-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের কৌশলগত শৃঙ্খলা ও জ্ঞান অর্জন করেছে। তবে সাম্প্রতিক রেকর্ডগুলো দেখায় যে তারা উন্নয়নশীল প্রতিপক্ষের মুখে কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দলটি সবচেয়ে ব্যস্ত সহযোগী দলগুলোর একটি। ২০২৪ সাল থেকে তারা একত্রে একচল্লিশটি ম্যাচ খেলেছে এবং মুহাম্মদ ওসীমের নেতৃত্বে স্থিতিশীল ফলাফল বজায় রেখেছে।
আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওমানের জন্য এখনো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল গতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা। এই তিনটি দলই অতীতের সাফল্যের ছাপ রেখে চলেছে, তবে বর্তমান টুর্নামেন্টে তাদের পুনরায় গতি পেতে হবে।
সামগ্রিকভাবে, সহযোগী দেশগুলো তাদের নিজস্ব লক্ষ্য নিয়ে টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে। কিছু দল ফলাফল নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
ইতালির প্রথমবারের অংশগ্রহণ, নেপালের ধারাবাহিকতা, কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান—all এই উপাদানগুলো টি২০ বিশ্বকাপকে সহযোগী দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মঞ্চে রূপান্তরিত করেছে।
প্রতিটি দলই নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোচ ও খেলোয়াড়দের লক্ষ্য স্পষ্ট: টুর্নামেন্টের উচ্চ পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণ করা এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য ভিত্তি স্থাপন করা।
বিশ্বকাপের শিডিউল অনুযায়ী, সহযোগী দলগুলো পরবর্তী রাউন্ডে কীভাবে পারফর্ম করবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে তাদের প্রত্যেকেরই একটি স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে—বিশ্বের শীর্ষ স্তরে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করা।
এই টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে, সহযোগী দেশগুলোকে আরও কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে, যা তাদের কৌশলগত বিকাশ ও মানসিক দৃঢ়তা পরীক্ষা করবে। শেষ পর্যন্ত, টি২০ বিশ্বকাপের এই অধ্যায়টি সহযোগী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



