26.9 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরাঙামতি আসনে নতুন ভোটার ও আঞ্চলিক দলের সমর্থন ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ

রাঙামতি আসনে নতুন ভোটার ও আঞ্চলিক দলের সমর্থন ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ৭ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে রাঙামতি আসনে ভোটের প্রস্তুতি চলছে। এই নির্বাচনে নতুন যোগদানকারী ভোটার এবং পাহাড়ি আঞ্চলিক দলের সমর্থন প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে পর্যবেক্ষক ও স্থানীয় মানুষ একমত।

রাঙামতি আসনে মোট সাতজন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে, যেখানে তরুণ প্রার্থীরা এবং আঞ্চলিক দলগুলোর সমর্থনকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে স্থানীয় জনগণ। নতুন ভোটারদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক দলের গোপন ও প্রকাশ্য সমর্থন উভয়ই প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুইটি পাহাড়ি আঞ্চলিক দল—পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)—এইবার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও তাদের সমর্থন প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। উভয় দলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব শক্তিশালী, ফলে প্রার্থীরা গোপনে ও প্রকাশ্যে উভয়ই তাদের সমর্থন অর্জনের জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

২০২২ সালের জাতীয় জনশুমারী অনুযায়ী রাঙামতি জেলার মোট জনসংখ্যা ৬,৪৭,৫৮৬, যার মধ্যে ৩,৭২,৮৭৫ জন পাহাড়ি এবং বাকি জনসংখ্যা বাঙালি। দশটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫,৯২,২৬৭, যার মধ্যে প্রায় ৩৫,০০০ ভোটার প্রথমবারের মতো ভোট দেবে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামতি আসনে ৪,৭৪,৩৫৪ ভোটার ছিলেন; দুই বছরের ব্যবধানে ভোটার সংখ্যা ৩৪,৯১৩ বাড়ে। এই বৃদ্ধি নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে, যা প্রার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সমর্থন গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।

রাঙামতি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিহার চাকমা, মা মা চিং মারমা, দিগন্ত তঞ্চঙ্গ্যা এবং শ্রেয়সী চাকমা এই নির্বাচনে প্রার্থিতা করছেন। তারা সবই পড়াশোনার জন্য রাঙামতি শহরে অবস্থান করেন এবং গত শনিবার সন্ধ্যায় টিটিসি সড়ক এলাকায় নির্বাচনী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করলেও, রাঙামতি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দীপংকর তালুকদার জেএসএসের প্রার্থী ঊষাতন তালুকদারের কাছে পরাজিত হন। সেই সময়ের ফলাফল আঞ্চলিক দলের প্রভাবের গুরুত্বকে স্পষ্ট করে তুলেছিল।

মা মা চিং, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী, পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দূরবর্তী এলাকায় স্কুলের অভাব এবং বিদ্যমান স্কুলে শিক্ষক সংকটের কারণে পাহাড়ি শিশুরা শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে।

দিগন্ত তঞ্চঙ্গ্যা, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্যসেবার অবনতিও উল্লেখ করেন। তার গ্রাম জেলা সদর থেকে দূরে অবস্থিত, এবং স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি তাকে এবং তার পরিবারকে কষ্টের মুখে ফেলেছে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেন, যেই প্রার্থী জেএসএস ও ইউপিডিএফের সমর্থন পাবে, তার জয় সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। আঞ্চলিক দলের সমর্থন ভোটারদের মনোভাব গঠনে এবং নির্বাচনী প্রচারে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখে।

আসন্ন নির্বাচনে আঞ্চলিক দলের সমর্থন প্রার্থীদের জন্য কৌশলগত সুবিধা এনে দিতে পারে, বিশেষ করে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে। এই সমর্থন প্রার্থীর প্রচারাভিযানকে শক্তিশালী করবে এবং নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়তা করবে।

সারসংক্ষেপে, রাঙামতি আসনে নতুন ভোটারদের সংখ্যা বৃদ্ধি, তরুণ প্রার্থীদের অংশগ্রহণ এবং জেএসএস ও ইউপিডিএফের সমর্থন একসাথে ফলাফলকে নির্ধারণের মূল উপাদান হয়ে উঠবে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা এই গতিবিধি বিবেচনা করে তাদের প্রচার কৌশল গড়ে তুলতে হবে, যাতে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের ইচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments