ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত দুই দেশের বাণিজ্যিক শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদান শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হবে। এই পদক্ষেপটি শিকাগো সময় অনুযায়ী শনিবার রাত ১২:০১ থেকে কার্যকর হবে।
নতুন শুল্ক ব্যবস্থা ধাপে ধাপে প্রয়োগ করা হবে, যাতে উভয় দেশের ব্যবসায়িক সংস্থাগুলোকে সামঞ্জস্যের সময় দেওয়া যায়। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারও ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক হ্রাসের সূচনা করেছে, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশকে আরও উন্মুক্ত করবে।
ইতিবাচক বাণিজ্যিক পরিবর্তনের পাশাপাশি, ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই প্রতিশ্রুতি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রাশিয়ান তেল গ্রহণ না করার শর্তে করা হয়েছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়া-উপরের নিষেধাজ্ঞা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তেল নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি পণ্য ক্রয় করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই উদ্যোগটি উভয় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্যিক বিষয়ের পাশাপাশি, দুই দেশ ১০ বছরের একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রূপরেখা তৈরি করার জন্যও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। এই রূপরেখা সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ভাগাভাগি এবং যৌথ মহাকাশ প্রকল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করবে বলে জানানো হয়েছে।
শুল্ক হ্রাসের কার্যকর তারিখ নির্ধারিত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী শনিবার রাত ১২:০১ থেকে শুরু হবে। এই সময় থেকে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা থেকে মুক্তি পাবে এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে পারবে।
মার্কিন সরকার এই উদ্যোগকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করেছে। সরকারী বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুল্ক হ্রাস এবং তেল আমদানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি উভয় দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ভারতীয় সরকারও এই পরিবর্তনকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সরকারী সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, শুল্ক হ্রাস এবং রাশিয়া তেল নিষেধাজ্ঞা উভয়ই দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সংযোগকে আরও দৃঢ় করবে।
এই নতুন বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো দুই দেশের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বন্ধুত্বকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে দীর্ঘদিনের সখ্যতা এই পদক্ষেপগুলোকে সমর্থনকারী মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক হ্রাস এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রূপরেখা উভয়ই উভয় দেশের শিল্প ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। তবে এই সুযোগগুলো বাস্তবায়নের জন্য উভয় পক্ষের ধারাবাহিক মনোযোগ ও সমন্বয় প্রয়োজন হবে।
ভবিষ্যতে, দুই দেশ শুল্ক হ্রাসের ধাপগুলো সম্পন্ন করার পর আরও গভীর বাণিজ্যিক চুক্তি এবং যৌথ প্রকল্পে কাজ করতে পারে। এছাড়া, প্রতিরক্ষা রূপরেখার বাস্তবায়ন ধীরে ধীরে শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি বিনিময় বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ এবং ভারতীয় শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার ভিত্তি স্থাপন করেছে। শুল্ক হ্রাস, তেল নিষেধাজ্ঞা এবং প্রতিরক্ষা রূপরেখা একসঙ্গে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থকে সমর্থন করবে এবং ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করবে।



