খুলনা জেলার দক্ষিণের দাকোপ উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী বটিয়াঘাটা বাজারে নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের তীব্রতা কমে যাওয়া লক্ষণ দেখা গেছে। ভোটারদের মধ্যে ভোটের প্রতি আগ্রহের অভাব স্পষ্ট, যদিও কিছু ব্যানার এবং ছোটো দলিল দেখা যায়।
দাকোপের চালনা বাজারে গিয়ে দেখা গেল, ভোটের উত্তাপের কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন নেই। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ব্যানার ছাড়া ভোটের প্রচারমূলক কোনো কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়নি। অধিকাংশ মানুষ ভোটের বিষয়ে নির্দিষ্ট মত প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক, কেউ ভোট না দেওয়ার ইঙ্গিত দেন না, কেউ দেবার প্রতিশ্রুতি দেন না।
বটিয়াঘাটা বাজারে কিছুটা বেশি সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেল, তবে তবুও ভোটারদের পছন্দের প্রশ্নে মুখ খুলতে দ্বিধা করা দেখা যায়। কয়েকজন লোক উল্লেখ করেছেন যে বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে, তবে কোনো দলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি।
দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা গঠিত খুলনা-১ আসন, ১৯৯১ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দল জিতেনি। ঐতিহাসিকভাবে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রভাব শক্তিশালী, তবে বর্তমান পর্যায়ে ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা জানান, খুলনা জেলায় মোট ছয়টি সংসদীয় আসন রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটিতে ভোটের প্রচার ও উচ্ছ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে খুলনা মহানগর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভোটের প্রতি আগ্রহ বেশি দেখা যায়।
আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উভয় গোষ্ঠীর ভোটের দিক নির্ধারণের মাধ্যমে পার্টিগুলোর পার্থক্য স্পষ্ট হতে পারে, তবে এখনো অধিকাংশ ভোটার তাদের মত প্রকাশে অনিচ্ছুক।
স্থানীয় রাজনীতিবিদ, ভোটার এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, বেশিরভাগ আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থনই ফলাফলকে প্রভাবিত করবে। তবে তাদের মধ্যে কোনো স্পষ্ট মনোভাব প্রকাশ পায়নি, ফলে রাজনৈতিক গতি ধীর হয়ে আছে।
কিছু নেতার দলীয় পরিবর্তনের খবর পাওয়া গেছে; তারা হয় বিএনপি বা অন্য কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা তবু নীরবতা বজায় রেখেছেন, মুখে কুলুপ এঁটে আছে। এই নীরবতা নির্বাচনী গতিবিধিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
খুলনার পাঁচটি আসনে সরাসরি বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশিত। একটি আসনে জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী নেই; সেখানে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে “খেলাফত মজলিস” প্রার্থী দায়িত্বে রয়েছে।
বিশেষ করে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা-৪ (রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী এস কে আজিজুল বারী হেলাল কিছুটা স্বস্তিতে আছেন, কারণ তাদের প্রতিপক্ষের উপস্থিতি কম।
অন্য আসনগুলোতে বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। স্থানীয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, আওয়ামী লীগ ভোটের পরিমাণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থনই ফলাফল নির্ধারণে মূল চাবিকাঠি হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, দাকোপ ও বটিয়াঘাটায় ভোটের উত্তাপ কমলেও, খুলনা-১ আসনে সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ ভোটের গুরুত্ব বাড়ছে। বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ভোটারদের অনিশ্চিত মনোভাব আগামী নির্বাচনের ফলাফলকে নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



