আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে হোস্ট দেশের দিকে দলগুলো যাত্রা থেকে বিরত হয়েছে। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে ২০২৬ সালের T20 বিশ্বকাপ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি উদাহরণে দলগুলো ম্যাচ ছেড়ে দেয়া বা পরিবর্তন করা হয়েছে।
১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ শ্রীলঙ্কা সহ-আয়োজক হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়, তবে টুর্নামেন্টের আগে কলম্বোতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ে। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল গ্রুপ ম্যাচগুলো খেলতে অস্বীকার করে এবং তাদের ম্যাচগুলো ফরফেট হয়। ফলে শ্রীলঙ্কা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পায়, যদিও অস্ট্রেলিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুজনেই পরবর্তী রাউন্ডে অগ্রসর হয়। শ্রীলঙ্কা শেষ পর্যন্ত লাহোরে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলকে পরাজিত করে শিরোপা জিতে।
আফ্রিকায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল এবং কেনিয়া। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল হ্যারারে জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করে, কারণ যুক্তরাজ্যের সরকার রবার্ট মুগাবের শাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। একই সময়ে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল মোম্বাসার সাম্প্রতিক বোমা হামলার পর কেনিয়ার বিরুদ্ধে নাইরোবিতে ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করে। ICC স্থানান্তরের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে, ফলে জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল ও কেনিয়াকে ওয়াকওভার দেওয়া হয়। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়ে, আর কেনিয়া ওয়াকওভারের পয়েন্ট ব্যবহার করে ঐতিহাসিকভাবে সেমিফাইনালে পৌঁছায়।
২০০৯ সালের ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত T20 বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে ভিসা ও কূটনৈতিক সমস্যার কারণে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল টুর্নামেন্ট থেকে প্রত্যাহার করে, যদিও তাদের অংশগ্রহণ ফি প্রদান করা হয়। স্কটল্যান্ড দলকে পরিবর্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০১৬ সালের বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত U-19 বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল নিরাপত্তা হুমকির কথা উল্লেখ করে টুর্নামেন্ট থেকে সরে যায়। তার পরিবর্তে আয়ারল্যান্ড দল অংশগ্রহণ করে।
২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত ক্রিকেট দল পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সঙ্গে সরাসরি ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করে, ফলে দুই দেশের মধ্যে হাইব্রিড মডেল প্রয়োগ করা হয়। কিছু ম্যাচ পাকিস্তানের ভৌগোলিক স্থানে এবং কিছু ভারতীয় মাটিতে অনুষ্ঠিত হয়, যা নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উদ্বেগের সমাধান হিসেবে গৃহীত হয়।
এই ঘটনাগুলো দেখায় যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজনৈতিক নীতি ও নিরাপত্তা উদ্বেগ টুর্নামেন্টের কাঠামোকে প্রভাবিত করে। দলগুলো যখন হোস্ট দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বা কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ করে, তখন তারা ম্যাচ ছেড়ে দেয় বা বিকল্প ব্যবস্থা চায়।
ICC প্রায়শই হোস্ট দেশের সঙ্গে সমঝোতা না করে ম্যাচের স্থান পরিবর্তনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে, ফলে ওয়াকওভার বা দল পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই পদ্ধতি টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতামূলক সমতা ও আর্থিক দিককে প্রভাবিত করে।
হোস্ট দেশগুলোও এই ধরনের প্রত্যাহার থেকে আর্থিক ও খ্যাতিগত ক্ষতি ভোগ করে। শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল এবং কেনিয়া মতো দেশগুলো ম্যাচের রদবদল বা ওয়াকওভারের ফলে টিকিট বিক্রি, পর্যটন এবং স্পন্সরশিপে ক্ষতির মুখোমুখি হয়। তবু কিছু ক্ষেত্রে, যেমন ১৯৯৬ সালের ফাইনাল লাহোরে অনুষ্ঠিত হওয়ায় হোস্ট দেশ পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে উপকার হয়।
ভবিষ্যতে ২০২৬ সালের ICC T20 বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে একই ধরনের ঝুঁকি থাকতে পারে। নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিষয়গুলোকে আগে থেকেই সমাধান করার জন্য ICC-কে হোস্ট দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবং বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে, যাতে ম্যাচের ধারাবাহিকতা ও ন্যায্যতা বজায় থাকে।



