বারিশালের মেহেন্দিগঞ্জে গতকাল সকালেই জামায়াত-এ-ইসলামির আমের শফিকুর রহমান একটি নির্বাচনী সমাবেশে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার দল কখনোই জবরদস্তি, জমি দখল বা ভুয়া মামলার মাধ্যমে কোনো ব্যবসা চালায়নি এবং শাসনকালে এধরনের কোনো কাজের অনুমতি দেবে না।
শফিকুরের মতে, ৫ আগস্ট ২০২৪ের পর থেকে জামায়াত-এ-ইসলামি জনগণের জীবন, সম্পদ ও মর্যাদা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে, যেখানে অন্য কিছু দল স্বার্থসিদ্ধির পথে ধাবিত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের সেবা, ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়।
বক্তা জুলাই মাসে শহীদদের ত্যাগকে স্মরণ করে বলেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে আত্মত্যাগ করেছেন যেখানে বৈষম্য থাকবে না। এই ঐতিহাসিক ত্যাগকে ভিত্তি করে তিনি আগামী নির্বাচনে ১১ পার্টির জোটের জয়কে দেশের সমগ্র জয়ের সঙ্গে যুক্ত করেন।
শফিকুরের মতে, যদি জনগণের ভোটে জোট জয়লাভ করে, তবে দেশের ন্যায়বিচার পুনর্স্থাপিত হবে। তিনি জামায়াত-এ-ইসলামির দুর্নীতি বিরোধী নীতি তুলে ধরে বলেন, ক্ষমতা পেলে কেবল শিকড় কাটা নয়, পুরো গাছই উধাও করা হবে।
বক্তা আইন প্রয়োগের বৈষম্যকেও সমালোচনা করেন, যেখানে ছোটখাটো অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হয়, তবে বড় বড় দুর্নীতিগ্রস্তদের ওপর কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। তিনি এই অনিয়মকে ন্যায়বিচারের বিরোধী হিসেবে উল্লেখ করেন।
পূর্ববর্তী সরকারকালে গৃহীত গৃহহীনতা ও অর্থ পাচারের পরিমাণ সম্পর্কে শফিকুরের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে ব্যাংক, বীমা সংস্থা এবং বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছে। তিনি বলেন, এই অর্থ দেশের ১৮ কোটি নাগরিকের সম্পদ, যা চারটি জাতীয় বাজেটের সমান।
শফিকুর জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত-এ-ইসলামি এই অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে এবং দেশের আর্থিক স্বাস্থ্যের পুনরুজ্জীবন নিশ্চিত করবে। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, তার দল দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দমন ও হিংসার শিকার হয়েছে।
বক্তা জানান, অতীতের ১১জন শীর্ষ নেতা গৃহহীনতা ও গুলিবিদ্ধের শিকার হয়েছেন, আর হাজার হাজার কর্মী নিহত বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়েছেন। তিনি এই ঘটনাগুলোকে দেশের সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে জামায়াত-এ-ইসলামির অবস্থান হিসেবে তুলে ধরেন।
শফিকুর আরও উল্লেখ করেন, বহু বছর ধরে জামায়াত-এ-ইসলামির অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে এবং দলটির নিবন্ধন ও নির্বাচনী চিহ্ন অবৈধভাবে বাতিল করা হয়েছে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বৈষম্য হিসেবে বিবেচনা করেন।
সমাবেশে শফিকুরের বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল, জনগণের কাছে জামায়াত-এ-ইসলামির স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীল শাসনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা। তিনি আশ্বাস দেন, যদি জোটের সরকার গঠন হয়, তবে দুর্নীতি নির্মূল, সম্পদ প্রত্যাবর্তন ও রাজনৈতিক দমনমুক্তি নিশ্চিত করা হবে।
বক্তা শেষ করে বলেন, জামায়াত-এ-ইসলামি দেশের ভবিষ্যৎ গঠন ও উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত এবং জনগণের সমর্থন পেলে এই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করবে।



