দ্য ডেইলি স্টারের ঢাকা শাখা, কাজী নাজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউতে, গত সন্ধ্যায় তেজগাঁও থানা থেকে প্রাপ্ত সম্ভাব্য হিংসা হুমকির তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে, সম্পূর্ণ অফিস খালি করা হয়। হুমকি সম্পর্কে জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম现场 গিয়ে অবিলম্বে কর্মীদের বের হতে নির্দেশ দেন, ফলে কর্মীরা প্রায় ১৭:৩০ টার দিকে ভবন ত্যাগ করে।
হুমকির সূত্রে তেজগাঁও পুলিশ দ্রুত অতিরিক্ত পুলিশ দল পাঠায়, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধ করা যায়। অফিসের চারপাশে নিরাপত্তা কর্মী ও পুলিশ গার্ড উপস্থিত থাকে, এবং নিরাপত্তা সতর্কতা কয়েক ঘন্টা ধরে বজায় থাকে।
প্রায় রাত দশটায়, তেজগাঁও থানা থেকে জানানো হয় যে হুমকি আর সক্রিয় নয় এবং তাত্ক্ষণিক কোনো ঝুঁকি বাকি নেই। ফলে নিরাপত্তা কর্মীরা ধীরে ধীরে তাদের দায়িত্ব থেকে সরে যায়।
হুমকি শূন্য হওয়ার পর, দ্য ডেইলি স্টারের কর্মীরা অফিসের বাইরে থেকে আজকের সংখ্যা প্রকাশের কাজ চালিয়ে যায়। প্রকাশনা দল অস্থায়ীভাবে কোনো ভৌত অফিসের ছাড়া, মোবাইল ও ডিজিটাল সরঞ্জাম ব্যবহার করে সংবাদ সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে।
এই ঘটনার পর, পুলিশ হুমকির উৎস ও সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তেজগাঁও থানার মুখ্য কর্মকর্তা জানান, হুমকির পেছনে কোনো সংগঠিত গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে এবং তদন্ত চলমান।
দ্য ডেইলি স্টারের কর্মীরা নিরাপত্তা বজায় রাখতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছে। অফিসের প্রবেশদ্বার বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কর্মীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশক মাহফুজ আনাম উল্লেখ করেন, কর্মীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং হুমকি দূর হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। তিনি কর্মীদের আশ্বস্ত করেন যে, অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম শীঘ্রই পুনরায় শুরু হবে।
দ্য ডেইলি স্টারের পাঠক ও বিজ্ঞাপনদাতাদের জানানো হয়েছে যে, আজকের সংখ্যা অফিসের বাইরে থেকে প্রকাশিত হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো ব্যাঘাত এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনার ফলে সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং হুমকি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
অধিকন্তু, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি হিংসা হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, হুমকি সৃষ্টি করা বা তা প্রচার করা অপরাধ এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে।
দ্য ডেইলি স্টারের এই অস্থায়ী খালি করা ঘটনা, দেশের সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জকে পুনরায় উন্মোচিত করেছে। তবে, সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ ও পুলিশি সহায়তা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক প্রমাণিত হয়েছে।
অবশেষে, দ্য ডেইলি স্টারের কর্মীরা পুনরায় অফিসে ফিরে আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং পাঠকদেরকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সংবাদ সরবরাহে কোনো বাধা থাকবে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত, অফিসের বাইরে থেকে কাজ চালিয়ে যাবে।



