৩ ফেব্রুয়ারি সকাল, গাজীপুর-২ আসনের মাঠ পরিদর্শন পথে গাজীপুর সদর থেকে আসা এক ভোটারকে দেখা যায়। তিনি ঢাকা শহরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন এবং গুলশান-১ আসনের ভোটার, তবে এই নির্বাচনী মৌসুমে তার মনোযোগ তিস্তাপারের নিজের গ্রামে। ছুটির দিনে বাড়ি ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি, যেখানে নদীভাঙা ও অবহেলিত গ্রামটি দরিদ্র অবস্থায় রয়েছে।
গ্রামটির বাসিন্দারা এখন ভোটের ক্ষেত্রে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে তিনি জানান। ভোটাররা প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা এবং এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা মূল্যায়ন করে ভোট দিচ্ছেন। গাজীপুর-২ আসন দেশের সর্বোচ্চ ভোটারসংখ্যা ধারণ করে; আনুমানিক আট লাখ পঞ্চাশ হাজারের কাছাকাছি ভোটার রয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি নারী।
এই আসনের টঙ্গী ও গাছা এলাকায় শিল্পশ্রমিক, বিশেষত অভিবাসী পোশাকশ্রমিকদের ঘনবসতি রয়েছে। বহু শ্রমিক স্থানীয় ভোটার হয়ে গেছেন, আর তাদের বেশিরভাগই নিজেদের বাসস্থানের এলাকায়ই ভোট দেন। শিল্প ও কৃষি উভয় ক্ষেত্রের মিশ্রণ গাজীপুর-২কে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রবণতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়।
একজন পোশাকশ্রমিক রাশেদুল ইসলাম টঙ্গী স্টেশন রোডে বিসিক শিল্পনগরীর পাশে গোপালপুরের দিকে যাওয়ার পথে ধানের শীষের ব্যানারগুলো লক্ষ্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপস্থিতি দৃশ্যমান, পাশাপাশি জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন ঐক্যের সদস্য এনসিপি শাপলা কলি এলাকার রাজনৈতিক আলোচনায় সক্রিয়।
গাজীপুরের একটি ছোট চালের দোকানে বসে থাকা কয়েকজন প্রবীণ ব্যবসায়ীও তাদের ভোটের প্রবণতা প্রকাশ করেছেন। তারা বিএনপির প্রতি ঝোঁক দেখিয়েছেন এবং বলেন, টঙ্গী এলাকায় দীর্ঘদিনের বিএনপি পরিবারগুলোর প্রভাব এখনও দৃঢ়। তবে জামায়াত-এ-ইসলামি দলের প্রার্থী উপস্থিত হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হবে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
এই প্রবীণদের জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। তারা বলেন, যুদ্ধের স্মৃতি ভুলে যাওয়া যায় না এবং তা ভোটের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু ভোটার জানান, যদি আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ওপর হয়রানি বাড়ে, তবে তারা বিএনপির দিকে ঝুঁকতে পারে।
বহু ভোটার সুষ্ঠু নির্বাচন, রাস্তায় শান্তি ও নিরাপত্তা দাবি করছেন। তারা উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান অবস্থা সন্তোষজনক নয় এবং মানুষের ধৈর্য শেষের দিকে। সামান্য কারণেই মানুষ একে অপরকে হত্যা করছে, যা সামাজিক অশান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
একজন ভোটার বলেন, “ভোট দিছি, চাকরি হয় না,” আরেকজন জিজ্ঞাসা করেন, “আমরা খামু কী কইরা?” এই মন্তব্যগুলো কর্মসংস্থান ও জীবনের মান উন্নয়নের প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।
গাজীপুর-২ আসনের এই বৈচিত্র্যময় মতামত ও প্রত্যাশা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি সমন্বিত নীতি গড়ে তোলা না হলে ভোটারদের সমর্থন অর্জন কঠিন হবে।
আসনের ফলাফল জাতীয় পর্যায়ে পার্টিগুলোর কৌশল নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। যদি বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি সমন্বিত জোট শক্তিশালী হয়, তবে আওয়ামী লীগকে ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে অতিরিক্ত প্রচেষ্টা করতে হবে।
সর্বশেষে, গাজীপুর-২ আসনের ভোটাররা তাদের ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য স্পষ্ট প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন; তারা উন্নত সেবা, নিরাপদ পরিবেশ এবং কর্মসংস্থান সুযোগের দাবি করছেন। এই চাহিদা পূরণ করা না হলে নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে।



