সান ফ্রান্সিসকোতে আগামী শনিবার একটি প্রতিবাদী মার্চের আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়েছে, যার লক্ষ্য ক্যালিফোর্নিয়ার প্রস্তাবিত ‘বিলিয়নিয়ার ট্যাক্স’ আইনকে বাধা দেওয়া। এই উদ্যোগের সংগঠক হলেন ডেরিক কফম্যান, যিনি এআই স্টার্টআপ RunRL-র প্রতিষ্ঠাতা এবং পূর্বে Y Combinator তে অংশগ্রহণকারী। কফম্যানের মতে, এই ট্যাক্স আইন প্রযুক্তি খাতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই তিনি একা এই মার্চের জন্য তহবিল সংগ্রহ ও পরিকল্পনা করছেন।
মার্চের প্রচারমূলক ওয়েবসাইটে সংক্ষিপ্ত স্লোগান হিসেবে “বিলিয়নিয়ারদের নিন্দা জনপ্রিয়, তাদের হারানো ব্যয়বহুল” উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমে এটি একটি রসিকতা বা ছদ্মবেশী প্রচার বলে ধারণা করা হয়, কারণ সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এটিকে হাস্যকর বা স্যাটায়ার হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। তবে সংগঠক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে এই ইভেন্টটি কোনো রসিকতা নয় এবং এটি বাস্তবায়িত হবে।
ক্যালিফোর্নিয়ার বিলিয়নিয়ার ট্যাক্স আইনটি গত বছর প্রস্তাবিত হয় এবং এতে এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদধারী নাগরিকদের মোট সম্পদের উপর একবারের ৫% কর আরোপের কথা বলা হয়েছে। এই করের আয় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন জনসেবা উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে, এবং সাম্প্রতিক ফেডারেল তহবিলের কাটছাঁট পূরণে সহায়তা করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বিলিয়নিয়ার ট্যাক্সের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ইউনিয়ন SEIU (Service Employees International Union) সমর্থন জানিয়েছে, এবং কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এই কর রাজ্যের আর্থিক ঘাটতি কমাতে এবং সামাজিক নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে ট্যাক্সের বিরোধী দিক থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি শিল্পের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, কারণ তারা বিশ্বাস করেন যে এই ধরনের কর প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
ডেরিক কফম্যানের মতে, ট্যাক্সের প্রয়োগের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে বিনিয়োগের প্রবাহ কমে যাবে এবং উচ্চপ্রযুক্তি কর্মসংস্থান হ্রাস পাবে। তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি আর RunRL-র সঙ্গে যুক্ত নন, তবে তার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই ট্যাক্সের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মার্চের পরিকল্পনা অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীরা সান ফ্রান্সিসকোর কেন্দ্রীয় স্থানে সমবেত হয়ে ট্যাক্সের বিরোধিতা প্রকাশ করবে এবং ট্যাক্সের প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াবে। কফম্যানের বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে এই আন্দোলন কোনো বহিরাগত আর্থিক সমর্থন পায় না; সবকিছুই তার নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে।
এই প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী ও সমর্থকরা ট্যাক্সের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি ও প্রযুক্তি শিল্পের ওপর প্রভাব তুলে ধরতে চান, পাশাপাশি ট্যাক্সের মাধ্যমে অর্জিত তহবিলের ব্যবহারিক দিকেও প্রশ্ন তুলবেন। তারা দাবি করছেন যে ট্যাক্সের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের বণ্টন স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হওয়া উচিত।
ক্যালিফোর্নিয়া সরকার এই ট্যাক্সকে রাজ্যের আর্থিক সংকট মোকাবেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে ট্যাক্সের প্রয়োগে পার্লামেন্টারি আলোচনার সময় বিভিন্ন দিক থেকে মতবিরোধ দেখা দিচ্ছে, বিশেষ করে প্রযুক্তি শিল্পের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে তীব্র বিরোধ।
বিলিয়নিয়ার ট্যাক্সের সমর্থকরা যুক্তি দেন যে উচ্চ সম্পদধারী ব্যক্তিদের উপর কর আরোপ করা ন্যায়সঙ্গত এবং এটি সামাজিক সমতা বাড়াতে সহায়ক। অন্যদিকে, ট্যাক্সের বিরোধীরা বলেন যে এই ধরনের কর উচ্চ সম্পদধারী ব্যক্তিদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবে, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
মার্চের আয়োজনের মাধ্যমে ডেরিক কফম্যান এই বিতর্ককে জনসমক্ষে নিয়ে আসতে চান এবং ট্যাক্সের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনমত গঠন করতে চান। তিনি উল্লেখ করেন যে এই আন্দোলন ক্যালিফোর্নিয়ার ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিবাদী মার্চের সময়সূচি ও রুট সম্পর্কে বিস্তারিত এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে সংগঠক ইতিমধ্যে অংশগ্রহণকারীদের জন্য নিরাপত্তা ও লজিস্টিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে এই ইভেন্টের মাধ্যমে ট্যাক্সের বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি আরও বিস্তৃত হবে এবং রাজ্য সরকারকে ট্যাক্সের প্রয়োগে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।
বিলিয়নিয়ার ট্যাক্স আইনটি এখনো ক্যালিফোর্নিয়া আইনসভায় আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে, এবং আগামী সপ্তাহে আরও ভোট ও সংশোধনী প্রস্তাবিত হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ডেরিক কফম্যানের মার্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ট্যাক্সের ভবিষ্যৎ গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।



