গত এক বছর অর্ধেকের মধ্যে তিনটি দেশের সরকার তাদের জাতীয় ক্রিকেট দলের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে। ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের নির্দেশে ভারত দল নভেম্বর ২০২৪-এ আইসিসিকে জানায় যে, পরের বছরের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে ভ্রমণ করবে না। এক বছর পর, বাংলাদেশ সরকার নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ভারত ভ্রমণ প্রত্যাখ্যান করে, যা আজ থেকে শুরু হচ্ছে। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে যে, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে নির্ধারিত ভারত‑পাকিস্তান গ্রুপ‑স্টেজ ম্যাচে তাদের দল অংশ নেবে না।
ক্রীড়া ও রাজনীতির সম্পর্কের শিকড় ঔপনিবেশিক সময়ে ইম্পেরিয়াল ক্রিকেট কাউন্সিলের (বর্তমান আইসিসি) সময়ে রয়েছে, যখন কমনওয়েলথের সদস্য হওয়া টেস্ট জাতি হওয়ার শর্ত ছিল। সময়ের সাথে সঙ্গে আর্থিক স্বার্থ যুক্ত হয়ে এই জটিলতা আরও বাড়ে, এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।
আইসিসি প্রতিটি সরকারের সিদ্ধান্তে ভিন্নভাবে সাড়া দিয়েছে। ভারতের অনুরোধের ক্ষেত্রে আইসিসি দ্রুত ব্যবস্থা করে, টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও স্থান পরিবর্তন করে ভারতকে সুবিধা দেয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ যে পুনঃনির্ধারণের আবেদন করেছে তা আইসিসি প্রত্যাখ্যান করে, এবং পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে আলোচনার দরজা খোলা রাখে।
ভারতীয় দলের আগে থেকেই জানানো সিদ্ধান্তের তুলনায় বাংলাদেশ শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা উদ্বেগ তুলে ধরায় কিছু বিশ্লেষক মন্তব্য করেন যে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন। তবে এই তুলনা প্রায়শই মূল কারণকে উপেক্ষা করে, যা মূলত ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের একটি খেলোয়াড়ের নির্বাচন সিদ্ধান্তে নিহিত।
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের নির্দেশে নেওয়া হয়। এই পদক্ষেপটি বিশ্বকাপের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ঘটায়, ফলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ তীব্র হয়। বাংলাদেশ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় মাটিতে খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় ভ্রমণ প্রত্যাখ্যান করে।
মুস্তাফিজুরের বাদ দেওয়া এবং তার পরবর্তী নিরাপত্তা প্রশ্ন উভয়ই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের নতুন মাত্রা উন্মোচন করেছে। বাংলাদেশ সরকার এই উদ্বেগকে ভিত্তি করে আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের সূচি পরিবর্তনের দাবি তুলেছে, যদিও আইসিসি তা মেনে নিতে অস্বীকার করেছে।
বর্তমানে আইসিসি দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে বিভিন্ন বিকল্প অনুসন্ধান করছে। ভারতীয় দলের জন্য নতুন হোস্ট দেশ নির্ধারণ করা হয়েছে, আর পাকিস্তানের ক্ষেত্রে দলকে পুনরায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এখনও তার নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত ভারতীয় মাটিতে ভ্রমণ থেকে বিরত রয়েছে।
এই ধারাবাহিক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ক্রীড়া পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আইসিসি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে স্পষ্ট নীতি প্রণয়ন ও সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।



