কানাডার ৩১ বছর বয়সী তেহরিম ইকবাল, নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় রেজেন্সি রোমান্স সিরিজ ব্রিজার্টন দেখার পর যুক্তরাজ্যের শুটিং স্থানগুলো পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চেয়েছিলেন এবং তাই ইংল্যান্ডে পারিবারিক সফরের সঙ্গে সঙ্গে একটি ভ্রমণসূচি তৈরি করেন।
তেহরিমের পরিকল্পনা ছিল পরিবারকে দেখার পাশাপাশি ব্রিজার্টনের প্রধান দৃশ্যগুলো যেখানে ধারণ করা হয়েছে সেসব স্থানে ভ্রমণ করা। তার তালিকায় বাথের রয়্যাল ক্রেসেন্ট, গ্রীনউইচের রেঞ্জার হাউস এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ব্রিজার্টন প্রথমবার ২৫ ডিসেম্বর ২০২০-এ নেটফ্লিক্সে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে দ্রুতই দর্শকদের প্রিয় হয়ে ওঠে। সিরিজটি নেটফ্লিক্সের সর্বাধিক দেখা শোগুলোর মধ্যে স্থান পায় এবং ধারাবাহিকভাবে উচ্চ রেটিং বজায় রাখে।
সিজন চারের প্রথম অর্ধাংশ জানুয়ারির শেষের দিকে মুক্তি পায় এবং ৯১টি দেশে শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে। এই সাফল্যই ভ্রমণকারীদের শুটিং লোকেশনগুলো অন্বেষণ করার আগ্রহকে ত্বরান্বিত করেছে।
শুটিংয়ের বেশিরভাগ দৃশ্য লন্ডনের মেয়ফেয়ার এলাকায় ধারণ করা হলেও, প্রকৃত অবস্থানগুলো বাথ, গ্রীনউইচ এবং দেশের অন্যান্য অংশে বিস্তৃত। বাথে রয়্যাল ক্রেসেন্টকে ফেথারিংটন পরিবারের বাড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, আর গ্রীনউইচের রেঞ্জার হাউসকে ব্রিজার্টন পরিবারের বাসভবন হিসেবে দেখানো হয়েছে।
ইংল্যান্ডের বিভিন্ন রাজকীয় সম্পত্তি সিরিজে রঙ যোগ করেছে; ইয়র্কশায়ারের ক্যাসল হাওয়ার্ড, লিঙ্কনশায়ারের বেল্টন হাউস এবং বেডফোর্ডশায়ারের ওয়েস্ট পার্কের মতো স্থানগুলো জর্জিয়ান উচ্চবিত্ত সমাজের সমৃদ্ধি প্রদর্শন করে।
অনেক ভক্ত বলছেন, শোয়ের ভিজ্যুয়াল স্টাইল এবং পোশাকের নান্দনিকতা তাদেরকে গল্পের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করেছে। শুটিং স্থানগুলো পরিদর্শন করলে তারা নিজেকে ঐ সময়ের উচ্চবিত্ত সমাজের অংশ হিসেবে অনুভব করেন, যদিও আধুনিক ট্র্যাফিক ও পর্যটকদের ভিড় কখনো কখনো ঐ শোভা নষ্ট করে।
গ্রীনউইচে তেহরিমের ভ্রমণ মেঘাচ্ছন্ন এবং হালকা বৃষ্টির মধ্যে ঘটেছিল, তবে তিনি তা উপেক্ষা করে স্থানটির ঐতিহাসিক পরিবেশ উপভোগ করেন। তার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, কারণ তিনি সরাসরি শোয়ের পটভূমি দেখতে পেয়েছেন।
তেহরিমের ব্রিজার্টন-অনুপ্রাণিত শিল্পকর্ম অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে, যা সিরিজের প্রধান অভিনেত্রী নিকোলা কাউগ্লান এবং মূল লেখিকা জুলিয়া কুইনের দৃষ্টিও আকর্ষণ করেছে। তার সৃষ্টিগুলো ভক্তদের মধ্যে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বাথে অবস্থিত অ্যাবি ডেলি (যা শোতে মডিস্ট ড্রেস শপ হিসেবে দেখা যায়) এবং ওল্ড রয়্যাল নেভাল কলেজে ভক্তদের ছবি প্রচুর। এই পোস্টগুলো প্রায়ই সিরিজের সুর এবং দৃশ্যের উল্লেখসহ শেয়ার করা হয়, যা ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
ব্রিজার্টন শুটিং স্থানগুলোতে পর্যটকদের আগমন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, এবং এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও ভ্রমণ প্যাকেজ এবং গাইডেড ট্যুরের সৃষ্টি করতে পারে। সিরিজের ভিজ্যুয়াল আকর্ষণ এবং ঐতিহাসিক স্থাপনার সমন্বয় ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করছে।



