এইচবিওর আর্থিক থ্রিলার সিরিজ ‘ইন্ডাস্ট্রি’ এর চতুর্থ সিজনে একটি নতুন কাহিনী দেখা যায়, যেখানে তরুণ বিনিয়োগকারী হার্পার স্টার্নের দল টেন্ডার নামের একটি ফিনটেক কোম্পানির জালিয়াতি উন্মোচন করতে চায়। হার্পার তার সদ্য প্রতিষ্ঠিত বিনিয়োগ ফার্মের মাধ্যমে শেয়ার শর্ট করার পরিকল্পনা করে এবং টেন্ডারকে সম্ভাব্য পতনের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে।
হার্পার স্টার্নের ফার্মটি সম্প্রতি চালু হওয়ায় তহবিল সংগ্রহের জন্য উচ্চ রিটার্নের সুযোগ খুঁজছে। শেয়ার মূল্য হ্রাসের উপর বাজি ধরার জন্য তাকে এমন কোনো কোম্পানি দরকার যা দ্রুত পতনের ঝুঁকিতে থাকে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি একটি সাংবাদিকের সূত্র অনুসরণ করেন, যিনি টেন্ডার সম্পর্কে সন্দেহজনক তথ্য প্রদান করেন।
সন্দেহ দূর করার জন্য হার্পার তার দুই সহকর্মী, সুইটপিয়া এবং কওবেনা,কে ঘানা পাঠান। দুজনেই টেন্ডারের স্থানীয় কার্যক্রমে প্রবেশ করে কোম্পানির আর্থিক নথি ও ব্যবহারকারী ডেটা পর্যালোচনা করেন। তাদের অনুসন্ধানে স্পষ্ট হয় যে টেন্ডারের গ্রাহক সংখ্যা, আয় এবং নগদ প্রবাহ সবই কল্পিত।
সুইটপিয়া জানান যে টেন্ডার কৃত্রিম ব্যবহারকারী তৈরি করে কৃত্রিম আয় উৎপন্ন করছে, ফলে কৃত্রিম নগদ প্রবাহের ছাপ তৈরি হয়েছে। কওবেনা যোগ করেন যে কোম্পানির মূলধন কাঠামোই সম্পূর্ণভাবে ভুয়া ডেটার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ফলস্বরূপ টেন্ডারকে ‘কিছুই নয়’ এমন একটি শূন্য কাঠামো হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
টেন্ডার মূলত প্রাপ্তবয়স্ক কন্টেন্টের পেমেন্ট প্রসেসিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে শুরু হয়। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের অনলাইন সেফটি বিলের প্রয়োগে এই সেক্টরের ওপর কঠোর নিয়ম আরোপ করা হয়েছে, যার মধ্যে বয়স যাচাই এবং কন্টেন্ট ফিল্টারিং অন্তর্ভুক্ত। এই আইনগত পরিবর্তনের ফলে টেন্ডারকে নতুন নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়, নতুবা ব্যবসা বন্ধের মুখে পড়ে।
নিয়ন্ত্রক চাপে টেন্ডারকে দ্রুত দিক পরিবর্তন করতে হয়। কোম্পানির সিএফও-থেকে নেতা হওয়া হুইটনি টেন্ডারকে ব্যাংকিং সেক্টরে রূপান্তর করার পরিকল্পনা চালু করেন। হুইটনি টেন্ডারের সিইও হেনরিকে এই রূপান্তরের মুখপাত্র হিসেবে উপস্থাপন করে, যাতে বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকদের আস্থা জাগে।
হুইটনি ব্যাংকিং লাইসেন্সের জন্য রাজনৈতিক লবিং চালিয়ে যান এবং সম্ভাব্য মার্জার সুযোগের সন্ধান নেন। তার লক্ষ্য হল টেন্ডারকে একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা, যদিও কোম্পানির ভিত্তি ইতিমধ্যে জালিয়াতিতে ভরা। এই কৌশলটি আধুনিক টেক বারণের প্রচলিত ‘দ্রুত গতি, ভাঙা নিয়ম’ মানসিকতাকে প্রতিফলিত করে।
হার্পার পূর্বে কাজ করা প্রতিষ্ঠানে তার অবদানকে অবমূল্যায়ন করা হয় এবং তাকে ডিইআই (ডাইভার্সিটি, ইকুইটি, ইনক্লুশন) প্রকল্পের মুখ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই অভিজ্ঞতা তাকে নিজের ফার্ম চালু করার প্রেরণা দেয় এবং টেন্ডারকে শেয়ার বাজারে পতনের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেয়।
হার্পারের পুরনো বন্ধু ওস্মিন, যিনি হেনরির স্ত্রী, টেন্ডারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়ে। ওস্মিনের দৃষ্টিকোণ থেকে টেন্ডারকে রূপান্তর করা একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হয়, যেখানে হার্পারকে তা একটি শেয়ার বাজারের ধ্বংসের পরিকল্পনা হিসেবে মনে হয়। এই পারস্পরিক সংঘর্ষ সিরিজের নাটকীয়তা বাড়িয়ে দেয়।
‘ইন্ডাস্ট্রি’ সিজন ৪-এ টেন্ডারের জালিয়াতি চিত্রায়ন বাস্তব জগতের ফিনটেক স্ক্যামগুলোর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। অনলাইন সেফটি বিলের মতো নিয়মের প্রভাব, ভুয়া ব্যবহারকারী তৈরি করে আয় বাড়ানোর প্রচেষ্টা এবং দ্রুত ব্যাংকিং লাইসেন্সের জন্য লবিং—all এই বিষয়গুলো আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরে। সিরিজটি দর্শকদের জন্য কেবল বিনোদন নয়, বরং বর্তমান আর্থিক জগতে সতর্কতা জাগানোর একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
এইচবিওর ‘ইন্ডাস্ট্রি’ এর নতুন সিজনটি প্রযুক্তি জালিয়াতি, নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘর্ষকে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করে, যা বিনিয়োগকারী ও সাধারণ দর্শকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।



