শেরিল ক্রো, আন্তর্জাতিক গায়িকা-গীতিকার, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইম্পিচমেন্ট ও কারাদণ্ডের আহ্বান জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তার অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে পোস্ট করে উল্লেখ করেন, জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত ফাইলগুলোতে নাম উল্লেখিত বিদেশি ব্যক্তিরা কঠোর শাস্তি পাচ্ছেন, আর আমেরিকায় তা ঘটছে না।
ক্রো বলেন, “যদি আমরা শিশুদের রক্ষা না করি, যারা ধনী নেতাদের হাতে বিক্রি হচ্ছে, তবে আমরা কীভাবে নিজেদেরকে গর্বিত বলতে পারি”। তিনি আরও যুক্তি দেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ যেকোনো রাজনৈতিক দল, দেশ বা ব্যক্তিরা যারা এ বিষয়টি জানলেও কিছু না বললে, তাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।
বিলবোর্ড এই দাবির পর হোয়াইট হাউসের মন্তব্য চেয়ে যোগাযোগ করেছে, তবে হোয়াইট হাউস থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প এপস্টেইন সংক্রান্ত কোনো ভুল স্বীকার করেননি এবং তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কোনো তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে ডিপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঙ্কস রবিবার প্রকাশ করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প এবং মার‑এ‑লাগো রেসিডেন্সের নাম এপস্টেইন ফাইলগুলোতে অন্তত ৩৮,০০০ বার উল্লেখিত হয়েছে, যা নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে। এই তথ্যগুলো ফেডারেল ন্যায়বিচার বিভাগের ৩ মিলিয়ন পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট থেকে উদ্ঘাটিত হয়েছে।
সঙ্গীত জগতের আরেকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, জ্যাক হোয়াইট, একই সময়ে ইনস্টাগ্রামে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি ফাইলগুলোতে ট্রাম্পের নামের পুনরাবৃত্তি উল্লেখ করে, “এই মানুষকে অভিযুক্ত করুন, জেলখানা দিন” বলে আহ্বান জানান। হোয়াইটের পোস্টে ট্রাম্পের পূর্বে মুছে ফেলা একটি বর্ণবাদী ভিডিওর উল্লেখও রয়েছে, যেখানে মিশেল ও বারাক ওবামাকে বানর হিসেবে দেখানো হয়েছে।
শেরিল ক্রো এবং জ্যাক হোয়াইট উভয়ই ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনকালে নীতিমালা ও আচরণে বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করে আসছেন। গত জুলাই মাসে ক্রো “দ্য নিউ নরমাল” শিরোনামের গান প্রকাশ করে ট্রাম্পের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। গানে তিনি আধুনিক সমাজের অন্ধকার দিকগুলোকে জর্জ অরওয়েলের রচনায় তুলনা করে সমালোচনা করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এপস্টেইন ফাইলের প্রকাশের পর থেকে, বিভিন্ন শিল্পী ও পাবলিক ফিগার এই বিষয়টি নিয়ে জনমত গঠন করছেন। ক্রোর পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে শিশু শোষণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর কঠোর শাস্তি চেয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য না থাকলেও, ডিপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঙ্কসের মতে, বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত তদন্তের কোনো ভিত্তি নেই। তবে এপস্টেইন ফাইলের বিশাল পরিমাণ এবং ট্রাম্পের উল্লেখের সংখ্যা এই বিষয়টি জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছে।
শেরিল ক্রোর এই প্রকাশনা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তার সমর্থকরা তার অবস্থানকে সমর্থন করে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে, সমালোচকরা তার দাবিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ বলে সমালোচনা করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনগত অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়, তবে এপস্টেইন ফাইলের প্রকাশের ফলে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ক্রো এবং হোয়াইটের মত শিল্পীদের সমালোচনা এই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে।
এই ঘটনায় মিডিয়া এবং জনমত উভয়ই সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে, যেখানে এপস্টেইন ফাইলের বিশদ বিশ্লেষণ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে।
সর্বশেষে, শেরিল ক্রো এবং জ্যাক হোয়াইটের মত শিল্পীজনের দাবি এবং ডিপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের মন্তব্যের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ স্পষ্ট, যা ভবিষ্যতে কীভাবে সমাধান হবে তা সময়ই বলে দেবে।



