16 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনদক্ষিণ কোরিয়ার কেপপ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের শোষণ ও হয়রানি অভিযোগ

দক্ষিণ কোরিয়ার কেপপ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের শোষণ ও হয়রানি অভিযোগ

২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অবস্থিত একটি কেপপ প্রশিক্ষণ একাডেমিতে বিদেশি কিশোর-কিশোরী শিক্ষার্থীদের শোষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠে। এক তরুণী শিক্ষার্থী, যার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে, ছয় মাসের প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের জন্য ৩ মিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ১৯,৮০০ ডলার) প্রদান করে। তার লক্ষ্য ছিল পেশাদার নৃত্য ও গায়ন শিক্ষা গ্রহণ করে বড় মিউজিক এজেন্সির অডিশনে অংশ নেওয়া।

প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাপ্তাহিক অডিশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তবে শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন যে অডিশন কখনো হয়নি। নৃত্য ও গায়ন ক্লাসের সংখ্যা সীমিত ছিল এবং শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ক্লাস মিস করতেন। তদুপরি, তিনি এক উচ্চপদস্থ কর্মচারীর দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানান।

প্রতিষ্ঠানটি এই অভিযোগগুলোকে অস্বীকার করেছে এবং বলেছে যে অডিশনের সুযোগ ছিল, যদিও তা বাস্তবে প্রদান করা হয়নি। একই সময়ে, প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড অনুযায়ী ২০১০-এর শেষের দিক থেকে প্রায় ২০০ জন বিদেশি শিক্ষার্থী এই ধরনের প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছেন।

বিবিসি একই একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া দুইজন অন্য শিক্ষার্থীর কথাও জানিয়েছে। তাদের মধ্যে একজনও একই কর্মচারীর দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন, আর তৃতীয় শিক্ষার্থী অন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুপযুক্ত আচরণ প্রত্যক্ষ করেছেন, যদিও নিজে সরাসরি অভিজ্ঞতা পাননি। সকলেই প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের অডিশন সুযোগের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

কেপপ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো সাধারণত হাগওন (বেসরকারি একাডেমি) অথবা বিনোদন সংস্থা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ হয়। হাগওনগুলো শিক্ষা বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকে, যেখানে বিনোদন সংস্থা গুলো সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে থাকে। এই ক্ষেত্রে, শিক্ষার্থী যে প্রতিষ্ঠানটি বেছে নিয়েছেন তা বিনোদন সংস্থা হিসেবে নিবন্ধিত, ফলে শিক্ষা সংক্রান্ত আইনের আওতায় না থেকে নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি দেখা দেয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় প্রায় ৫,৮০০টি এজেন্সি তত্ত্বাবধান করে, তবে এই সংস্থাগুলোর ওপর শিক্ষা সংক্রান্ত কঠোর নিয়ম প্রযোজ্য নয়। ফলে, বিদেশি শিক্ষার্থীরা প্রায়শই উচ্চ ফি দিয়ে প্রশিক্ষণ নেয়, কিন্তু অডিশন ও ক্যারিয়ার গড়ার বাস্তব সুযোগ পায় না।

এই ঘটনাগুলো কেপপ শিল্পের দ্রুত বর্ধমান আন্তর্জাতিক আকর্ষণের সঙ্গে যুক্ত নিয়মাবলীর ঘাটতি প্রকাশ করে। বহু তরুণের স্বপ্ন কোরিয়ায় কেপপ শিল্পে প্রবেশের, তবে বাস্তবে তারা আর্থিক ও মানসিক ঝুঁকির মুখে পড়ে।

প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে যে তার প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বৈধ সুযোগ প্রদান করে, তবে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের বিবরণে দেখা যায় যে বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রত্যাশার থেকে অনেক দূরে।

কেপপ শিল্পের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে নিয়ন্ত্রণের অভাবের ফলে শোষণ ও হয়রানির ঘটনা বাড়তে পারে। এই প্রেক্ষাপটে, শিক্ষার্থীদের জন্য স্বচ্ছ তথ্য ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন।

কোরিয়ার শিক্ষা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত এই ধরনের অভিযোগের ওপর কোনো স্পষ্ট নীতি প্রকাশ করেনি। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার জন্য আইনগত কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান বাড়ছে।

শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছেন যে, প্রশিক্ষণ চলাকালীন তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছিল না। ফলে, তারা অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন।

এই ধরনের ঘটনা কেপপ শিল্পের গ্লোবালাইজেশন প্রক্রিয়ায় নিয়মাবলীর পুনর্বিবেচনা ও কঠোর প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। ভবিষ্যতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্বচ্ছ ফি কাঠামো, অডিশনের বাস্তবায়ন এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা উচিত।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments