লিয়াম রোজেনিয়র চেলসির প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। মঙ্গলবার আর্সেনালের বিপক্ষে কারাবাও কাপ সেমি-ফাইনালে তার দল একটি গুরুত্বপূর্ণ বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, ফলে রোজেনিয়রকে অনলাইন মন্তব্যের লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
ম্যাচের শেষের দিকে রোজেনিয়র একটি ড্রপিং বলকে সঠিকভাবে ধরতে পারেননি, যা চেলসির পরাজয়ে ভূমিকা রাখে। এই মুহূর্তটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন মিমের জন্ম নেয়।
অনলাইন ব্যবহারকারীরা রোজেনিয়রকে “লিঙ্কডইন লিয়াম” এবং ডেভিড ব্রেন্টের সঙ্গে তুলনা করে উপহাসের ছলে মন্তব্য করে। একটি মিমে তাকে “দ্য ইনবিটুইনার্স” সিরিজের উইল ম্যাককেনজি চরিত্রের রূপে দেখানো হয়েছে।
রোজেনিয়র স্বীকার করেন যে তিনি সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় নন, তাই হয়তো সব রসিকতা সরাসরি দেখেননি। তবু তিনি জানিয়েছেন যে এই ধরনের মন্তব্য তাকে বিরক্ত করে না এবং তিনি নিজেকে খুব গম্ভীরভাবে নেন না।
কোচ রোজেনিয়র জীবনের সংক্ষিপ্ততা নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, “জীবন খুবই ছোট, নিজের ওপর হাসতে পারা দরকার।” তিনি যোগ করেন, “এখন দেশের অনেক মানুষ আমার ওপর হাসছে, তবে আমি তা নিয়ে বেশি চিন্তা করি না।”
একটি প্রশিক্ষণ সেশনের ভিডিওতে চেলসির ১৮ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার এস্তেভাও উইলিয়ান রোজেনিয়রের ভুলটি পুনরায় দেখিয়ে মজা করে। রোজেনিয়র বলেন, “এস্তেভাও বলেছে, তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে আমি পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় ছিলাম।” তিনি এই মুহূর্তটি দলের সঙ্গে ভাগ করে হাসি-ঠাট্টা করেছেন।
রোজেনিয়রের কোচিং শুরুর পর থেকে চেলসির আটটি ম্যাচের মধ্যে ছয়টি জয় অর্জিত হয়েছে, যা তার কাজের প্রতি ইতিবাচক সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি দলের পারফরম্যান্স উন্নত করতে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করছেন।
দলীয় সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য রোজেনিয়র প্রি-ম্যাচে কেন্দ্রবিন্দুতে হাডলিং সেশন চালু করেছেন। খেলোয়াড়রা এখন ম্যাচের আগে একত্রে গিয়ে মনোভাব গঠন করেন, যা দলের ঐক্যবদ্ধতা বাড়াতে সহায়ক।
চেলসির প্লেয়ার সাপোর্ট ও ডেভেলপমেন্ট অফিসার উইলি ইসা এই সংস্কৃতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। রোজেনিয়র উল্লেখ করেন, “এটি একটি দলীয় উদ্যোগ, এবং উইলি ইসা তার অভিজ্ঞতা দিয়ে আমাদের সাহায্য করছেন।”
পরবর্তী ম্যাচে চেলসি ভলভসের (Wolves) সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যেখানে রোজেনিয়র বলের স্পর্শ উন্নত করার কথা পুনরায় উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “প্রশিক্ষণে আমরা এই দিকটি বিশেষভাবে কাজ করছি।”
রোজেনিয়রের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট: তিনি কঠোর প্রশিক্ষণ ও সঠিক মানসিকতা দিয়ে দলকে উন্নত করতে চান, তবে নিজেকে অতিরিক্ত গম্ভীরভাবে না নিয়ে হাস্যরসের মাধ্যমে চাপ কমাতে চান।
এই মনোভাবের ফলে চেলসির খেলোয়াড়রা মাঠে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পারফর্ম করছে এবং কোচের নেতৃত্বে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রোজেনিয়র ভবিষ্যতে আরও সফলতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।



