ব্রিটিশ অভিনেতা টোহিব জিমোহ ‘ইন্ডাস্ট্রি’ সিরিজের চতুর্থ সিজনে নতুন চরিত্রে উপস্থিত হয়। তিনি কওবেনা বানারম্যান নামের এক ট্রেডার হিসেবে লন্ডনের আর্থিক জগতে প্রবেশ করেন, যেখানে তার সিদ্ধান্তগুলোকে চালিত করে ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও শারীরিক চাপ। এই সিজনটি এইচবিও-তে সাপ্তাহিকভাবে প্রচারিত হচ্ছে এবং দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।
টোহিবের মতে, শোটি মূলত শক্তি‑লালসা সম্পন্ন ব্যাংকিং কর্মীদের মানসিকতা উন্মোচন করতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, এই চরিত্রগুলোকে বুঝে নিজের জীবনে একই ধরনের ভুল থেকে বাঁচা সম্ভব। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি নিজের ভূমিকাকে একটি শিক্ষামূলক উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
কওবেনা বানারম্যানের পরিচয় একটি ব্রিটিশ ট্রেডার হিসেবে, যিনি মোস্টিন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টে কাজ করেন। শোতে তার কাজের ধরণ ও নৈতিক দ্বন্দ্বগুলোকে তুলে ধরা হয়েছে, যা তাকে পরবর্তীতে হ্যারপার (মিহা’লা) প্রতিষ্ঠা করা নতুন উদ্যোগ স্টার্ন টাও‑এর অংশ করে। স্টার্ন টাও‑এর সঙ্গে তার সংযোগে তিনি পূর্বের পরামর্শদাতা এরিকের (কেন লুং) সঙ্গে কাজের সুযোগ পান।
‘ইন্ডাস্ট্রি’ সিরিজটি লন্ডনের উচ্চাভিলাষী ব্যাংকিং জগতে গড়ে উঠা জটিল সম্পর্ক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলে ধরে। চতুর্থ সিজনে নতুন চরিত্র ও কাহিনীর মোড় যুক্ত হওয়ায় শোটি আরও তীব্রতা পায়। এইচবিও-তে সাপ্তাহিকভাবে প্রচারিত হওয়ায় দর্শকরা ধারাবাহিকভাবে নতুন এপিসোডের অপেক্ষা করে।
সিজনের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত হলেন হুইটনি হালবারস্ট্রাম, যাকে ম্যাক্স মিংহেলা অভিনয় করেন। হুইটনি টেন্ডার নামের একটি সন্দেহজনক পেমেন্ট প্রসেসিং কোম্পানির সিইও পদ থেকে তার প্রাক্তন বন্ধুকে অপসারণ করে। টেন্ডার, যা যুক্তরাজ্যের একটি বড় ব্যাংকে রূপান্তরিত হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে, তার এই পদক্ষেপ শোতে নতুন উত্তেজনা যোগ করে।
হুইটনি টেন্ডারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য হেনরি মাক (কিট হারিংটন)কে নিয়োগ করেন। হেনরি সাম্প্রতিক সময়ে মাদক ও অ্যালকোহল আসক্তি থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছেন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার সঙ্গে সংগ্রাম করছেন। তার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শোতে একটি মানবিক দিক যোগ করে।
হেনরির স্ত্রী ইয়াসমিন (মারিসা আবেলা) টেন্ডারের যোগাযোগ বিভাগে কাজ করেন। তিনি কোম্পানির কৌশলগত সিদ্ধান্তে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং হুইটনির পরিকল্পনাকে সমর্থন করেন। ইয়াসমিনের উপস্থিতি টেন্ডারের অভ্যন্তরীণ গতি‑প্রকৃতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
হুইটনি ও হেনরির দল নতুন লেবার সরকারের নীতি‑নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করতে লবিং কার্যক্রম চালু করে। তারা সরকারী নীতিতে সুবিধা পেতে বিভিন্ন চ্যানেল ব্যবহার করে, যা শোতে রাজনৈতিক ও আর্থিক জগতের সংযোগকে উন্মোচিত করে।
পঞ্চম এপিসোডে কওবেনা এবং মিরিয়াম পেটচের চরিত্র সুইটপিয়া (মিরিয়াম পেটচ)কে হ্যারপারের নির্দেশে ঘানা, আক্রা শহরে পাঠানো হয়। এই মিশনটি টেন্ডার ও স্টার্ন টাও‑এর মধ্যে চলমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি নতুন স্তর উন্মোচন করে।
আক্রায় তাদের কাজের ফলাফল শোতে নতুন তথ্য ও সংঘাতের সূত্রপাত করে। কওবেনা ও সুইটপিয়ার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও স্থানীয় ব্যবসার সঙ্গে সংযোগকে তুলে ধরে, যা লন্ডনের আর্থিক দৃশ্যপটকে গ্লোবাল মাত্রায় প্রসারিত করে।
এই এপিসোডের পর থেকে টেন্ডারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও হুইটনির কৌশলগত চালচলন আরও তীব্রতা পায়। হেনরি ও ইয়াসমিনের ব্যক্তিগত সংগ্রাম শোতে মানবিক দিক যোগ করে, আর কওবেনার গ্লোবাল মিশন গল্পের জটিলতা বৃদ্ধি করে।
‘ইন্ডাস্ট্রি’ সিরিজের চতুর্থ সিজন এখন পর্যন্ত দর্শকদের জন্য আর্থিক জগতের রোমাঞ্চকর চিত্র উপস্থাপন করেছে। নতুন চরিত্র, রাজনৈতিক লবিং ও আন্তর্জাতিক মিশন শোকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে এবং পরবর্তী এপিসোডের জন্য উত্তেজনা তৈরি করেছে।



