ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক কার্বন অপসারণ স্টার্ট‑আপ টেরারডট আজ ইইয়নকে অধিগ্রহণের ঘোষণা করেছে। দুই সংস্থা একসাথে উন্নত শিলার ধূলিকণা ব্যবহার করে বায়ু থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করার প্রযুক্তি চালু করবে। এই একত্রীকরণটি বড় বিনিয়োগকারীদের সমর্থন পেয়েছে, যারা বৃহৎ চুক্তি পরিচালনার সক্ষমতা খুঁজছে।
টেরারডট এবং ইইয়ন উভয়ই ‘এনহ্যান্সড রক ওয়েদারিং’ (EWR) নামে পরিচিত পদ্ধতি ব্যবহার করে। এই প্রক্রিয়ায় সূক্ষ্ম পাথরের ধূলিকণা ফসলের মাঠে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা স্বাভাবিকভাবে শিলার ক্ষয় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং বায়ুমণ্ডলীয় কার্বনকে স্থায়ীভাবে জমা করে।
ইইয়নের সিইও অ্যানাস্টাসিয়া পাভলভিক হ্যান্স উল্লেখ করেছেন যে, তাদের কোম্পানি স্কেলে সীমাবদ্ধ ছিল এবং বড় চুক্তি গ্রহণে অক্ষমতা ছিল। তাই বৃহত্তর আর্থিক সমর্থন এবং বিস্তৃত অপারেশন প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য টেরারডটের সঙ্গে একত্রীকরণ উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়েছে।
EWR প্রযুক্তি স্বল্প খরচে কার্বন অপসারণের সম্ভাবনা রাখলেও, এটি বড় এবং বিস্তৃত ক্ষেত্রের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। বর্তমানে এই সেক্টরের দাম নির্ধারণে ক্রেতা ও বিক্রেতার প্রত্যাশার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে, যা CDR.fyi দ্বারা পরিচালিত সমীক্ষায় প্রকাশ পেয়েছে।
টেরারডটের অপারেশন প্রধানত ব্রাজিলে কেন্দ্রীভূত, যেখানে তারা বেসল্টকে প্রধান খনিজ হিসেবে ব্যবহার করে। বেসল্টের উচ্চ ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম উপাদান শিলার ক্ষয় প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে, ফলে কার্বন শোষণের হার বাড়ে।
অন্যদিকে, ইইয়ন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করে এবং ওলিভিনকে মূল উপাদান হিসেবে বেছে নিয়েছে। ওলিভিনের রাসায়নিক গঠন বেসল্টের তুলনায় ভিন্ন, তবে একইভাবে শিলার ক্ষয় ত্বরান্বিত করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডকে স্থায়ী করে।
টেরারডটের বিনিয়োগকারীর তালিকায় গিগাস্কেল ক্যাপিটাল, গুগল, ক্লেইনার পার্কিন্স এবং মাইক্রোসফট অন্তর্ভুক্ত। এই সংস্থাগুলি টেকসই জ্বালানি ও পরিবেশগত সমাধানে দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি রাখে এবং বড় স্কেলে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সরবরাহ করে।
ইইয়নের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে এজফান্ডার, মেরকেটর পার্টনার্স এবং ওভারটিউর। যদিও এই বিনিয়োগকারীরা স্টার্ট‑আপের উদ্ভাবনী পদ্ধতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে স্কেল বাড়াতে অতিরিক্ত সমর্থন প্রয়োজন ছিল।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বড় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ টেরারডটকে বৃহৎ চুক্তি, বিশেষ করে সরকারী ও শিল্পখাতের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেবে। একত্রীকরণে উভয় কোম্পানির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ভৌগোলিক উপস্থিতি একত্রিত হয়ে স্কেল অর্থনীতির সুবিধা অর্জন করা সম্ভব হবে।
তবে, EWR প্রযুক্তির বিস্তৃত গ্রহণে কিছু ঝুঁকি রয়ে গেছে। শিলার ধূলিকণা বিতরণে লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ, স্থানীয় কৃষকদের গ্রহণযোগ্যতা এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত অগ্রসর না হলে প্রকল্পের সময়সূচি প্রভাবিত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, টেরারডটের ইইয়ন অধিগ্রহণ কার্বন অপসারণ শিল্পে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৃহৎ আর্থিক সমর্থন এবং ভৌগোলিক বৈচিত্র্য একত্রিত হয়ে বাজারের চাহিদা পূরণে সক্ষমতা বাড়াবে, তবে লজিস্টিক ও নিয়ন্ত্রক বাধা মোকাবিলার জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা প্রয়োজন।



