হুলু এবং পাঞ্জাবি গায়ক‑অভিনেতা দিলজিত দোসাঞ্জের জীবনীমূলক ডকুমেন্টারি সিরিজের পরিকল্পনা বর্তমানে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সিরিজটি তার ছোট শহর থেকে শুরু করে পাঞ্জাবি ও বলিউড সঙ্গীতের শীর্ষে ওঠা, এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে অর্জিত সাফল্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে।
দিলজিত দোসাঞ্জের ক্যারিয়ার পাঞ্জাবের এক গ্রামীণ শহর থেকে শুরু হয়, যেখানে তিনি শৈশব থেকেই সঙ্গীতের প্রতি গভীর আগ্রহ গড়ে তোলেন। স্থানীয় মঞ্চে পারফর্ম করার পর ধীরে ধীরে পাঞ্জাবি গানের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলিউড চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। তার স্বতন্ত্র গায়নশৈলী এবং অভিনয়শক্তি তাকে দ্রুতই দু’টি শিল্পের মুখ্য মুখে পরিণত করে।
২০২৩ সালে কোচেলা উৎসবে প্রথম পাঞ্জাবি শিল্পী হিসেবে পারফর্ম করা দিলজিত আন্তর্জাতিক সঙ্গীত জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। ঐ পারফরম্যান্সে তিনি পাঞ্জাবি রিদমকে বৈশ্বিক দর্শকের সামনে তুলে ধরেন, যা সঙ্গীত সমালোচক ও ভক্তদের কাছ থেকে প্রশংসা অর্জন করে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
এরপর ২০২৪ সালে শুরু হওয়া Dil-Luminati Tour যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৩টি শহরে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি কনসার্টে লক্ষাধিক দর্শক উপস্থিত ছিলেন, এবং ট্যুরের সময় তিনি পাঞ্জাবি সঙ্গীতের আধুনিক রূপকে বৈশ্বিক শৈলীর সঙ্গে মিশ্রিত করে উপস্থাপন করেন। ট্যুরের মাধ্যমে তিনি পাঞ্জাবি সঙ্গীতের আন্তর্জাতিক আকর্ষণকে আরও দৃঢ় করেন।
অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, Dil-Luminati Tour যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা জুড়ে মোট ১১২ মিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করেছে। ট্যুরের সময় উৎপন্ন কর রাজস্ব প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার, এবং সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ৫,৩০০টি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করেছে। এই সংখ্যা পাঞ্জাবি শিল্পীর আন্তর্জাতিক ট্যুরের বৃহৎ অর্থনৈতিক গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
ডকুমেন্টারি সিরিজের পরিকল্পনায় কনসার্টের পেছনের দৃশ্য, এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার এবং শিল্পীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সিরিজটি শুধুমাত্র দিলজিতের ব্যক্তিগত যাত্রা নয়, পাঞ্জাবি সঙ্গীতের বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের প্রক্রিয়াকেও বিশ্লেষণ করবে। এতে শিল্পীর শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঙ্গীতের সাংস্কৃতিক প্রভাব উভয়ই তুলে ধরা হবে।
প্রকল্পটি পাঞ্জাবি সঙ্গীতের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়ানোর পাশাপাশি পশ্চিমা মিডিয়ায় পাঞ্জাবি সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বকে নতুন মাত্রা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিরিজের মাধ্যমে পাঞ্জাবি সঙ্গীতের বৈশ্বিক প্রবণতা এবং তার সাংস্কৃতিক প্রভাবকে বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এটি পাঞ্জাবি শিল্পীদের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
হুলু এবং দিলজিতের মধ্যে আলোচনাটি বর্তমানে মসৃণভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এবং চুক্তি সম্পন্ন হলে শ্যুটিং এই বছরই শুরু হতে পারে। সিরিজের প্রযোজনার সময়সূচি এবং বিষয়বস্তু নিয়ে উভয় পক্ষই সমন্বয় সাধন করছেন। শীঘ্রই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রত্যাশিত।
ডকুমেন্টারি সিরিজের সফলতা দিলজিতের ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং পাঞ্জাবি সঙ্গীতের বৈশ্বিক প্রবেশকে ত্বরান্বিত করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পাঞ্জাবি সংস্কৃতির সমৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার প্রভাব আরও দৃঢ় হবে।



