16 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইউক্রেনের সৈনিকের মা পেল জীবিত পুত্রের ফোন কল, যাকে মৃত বলে ধরা...

ইউক্রেনের সৈনিকের মা পেল জীবিত পুত্রের ফোন কল, যাকে মৃত বলে ধরা হয়েছিল

ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলের এক গ্রামবাসী মা, নাতালিয়া, গতকাল তার পুত্র নাজারের কাছ থেকে ফোন পেয়ে অবাক হলেন, যাকে এক বছর আগে মৃত বলে ধরা হয়েছিল এবং সমাধিস্থ করা হয়েছিল। নাজারের পরিবার ২০২৩ সালে তার দেহকে গ্রাম কবরস্থানে সমাহিত করেছিল, তবে আজকের কলের মাধ্যমে তিনি জীবিত এবং ক্লান্ত অবস্থায় কথা বলছেন।

নাজার দালেতস্কি ২০২২ সালে রাশিয়া সরকারের পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর পুনরায় সামরিক সীমানায় ফিরে গিয়েছিলেন। ২০১৪ সালের সংঘাতে ইতিমধ্যে অভিজ্ঞতা অর্জন করা তিনি, তখন ৪২ বছর বয়সী ছিলেন এবং সরাসরি লাইন‑অফ‑ফায়ার‑এ ফিরে গিয়েছিলেন।

মে ২০২৩-এ নাজার অচেনা স্থানে নিখোঁজ হয়ে যান এবং পরিবার তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত বলে বিশ্বাস করে সমাধিস্থ করে। তার দেহের জন্য কবরস্থানে একটি শিলালিপি তৈরি করা হয় এবং পরিবার শোকের দিনগুলো কাটায়।

এক মাস পরে নাজারের মা একটি রুশ ভাষায় ফোন কল পান, যেখানে এক অজানা ব্যক্তি জানায় নাজার বন্দি হয়েছে, তবে “সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে” বলে আশ্বাস দেয়। কলের সময় দেহের অবস্থান বা আহত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়নি, ফলে পরিবারকে সন্দেহের মধ্যে রেখে দেয়।

প্রায় এক বছর পর, নাজারের মা DNA নমুনা প্রদান করে দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের একটি মরগে শনাক্ত করা দেহের সাথে মিল পান। মৃতদেহটি জ্বালাময় বাসে পাওয়া কয়েকটি দেহের একটি ছিল, যা জ্বলে পুড়ে গিয়েছিল এবং DNA বিশ্লেষণের মাধ্যমে নাজারের সাথে সামঞ্জস্য পাওয়া যায়।

সম্প্রতি রাশিয়া সরকারের সঙ্গে একাধিক বন্দী বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে নাজারকে মুক্তি দেওয়া হয়। এই বিনিময়টি উভয় পক্ষের জন্য মানবিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয় এবং যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী কষ্টের মাঝেও কিছু সান্ত্বনা দেয়।

মা নাতালিয়া ফোনে নাজারকে জিজ্ঞেস করেন, “তোমার হাত, পা সব আছে কি? তুমি ঠিক আছো?” নাজারের উত্তরে তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমি ঠিক আছি, মা।” মা তৎক্ষণাৎ “আমার সোনার সন্তান, আমি তোমার জন্য কতদিন অপেক্ষা করেছি” বলে তার প্রতি অশেষ আনন্দ প্রকাশ করেন।

নাজারের চাচাতো বোন রোকসোলানা, কলের সময় চিৎকার করে আনন্দে উল্লাস করেন এবং “এটা যেন স্বপ্নের মতো, আমি তার কণ্ঠ শুনে বিশ্বাস করতে পারছি না” বলে তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তার মুখে অশ্রু ও হাসি একসাথে মিশে গিয়েছিল।

এই ঘটনার মাধ্যমে পরিবারকে একবার আবার শোকের পর্দা থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা হয়েছে এবং যুদ্ধের কষ্টের মাঝেও মানবিক সাফল্যের উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নাতালিয়া বলেন, “এক বছর আগে আমি তাকে সমাধিস্থ করেছিলাম, আর এখন তার কণ্ঠ শোনার পর আমার হৃদয় ভেঙে গেল, তবে আনন্দে ভরে গেল।”

বন্দী বিনিময় প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিনের আলোচনার বিষয়, এবং রাশিয়া সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে উভয় পক্ষের বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের বিনিময় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যুদ্ধের প্রভাব কমাতে সহায়তা করে এবং ভবিষ্যতে আরও সমঝোতার দরজা খুলে দেয়।

রাশিয়া সরকারের এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নজরে এসেছে, যারা যুদ্ধবন্দীর অধিকার রক্ষার জন্য চাপ বাড়িয়ে চলেছে। নাজারের মুক্তি এই প্রেক্ষাপটে একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

নাজারের পরিবার এখন তার পুনরায় সংহতি ও স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, এবং তার ফিরে আসা পুরো গ্রামকে একত্রিত করে নতুন আশা জাগিয়ে তুলেছে। এই ঘটনা যুদ্ধের অন্ধকারে এক আলোকসজ্জার মতো, যা মানবিকতা ও পারিবারিক বন্ধনের শক্তি পুনরায় প্রমাণ করে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments