গণবিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান শুক্রবার রাতের দিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হন। অনুষ্ঠানটি ঢাকা শহরের ছাত্রদলের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত সদস্যরা নতুন সদস্যকে ফুলের মালা দিয়ে স্বাগত জানায়। মৃদুল দেওয়ান এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতির নতুন মঞ্চে তার ভূমিকা প্রসারিত করার সংকল্প প্রকাশ করেন।
স্বাগত অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। উভয়ই মৃদুল দেওয়ানকে ফুলের গুচ্ছ দিয়ে সম্মানিত করেন এবং তার নতুন দায়িত্বের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করেন। উপস্থিত সদস্যদের মুখে উচ্ছ্বাসের ছাপ দেখা যায়, যা ছাত্রদলের সংহতি ও শক্তি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
মৃদুল দেওয়ান ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত গণবিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নির্বাচনে ভিপি পদে নির্বাচিত হন। এই নির্বাচন ছিল সাত বছরের বিরতির পর পুনরায় অনুষ্ঠিত, যেখানে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন একত্রিত হয়ে ভোটদান করেছিল। মৃদুলের নির্বাচনী জয় তার জনপ্রিয়তা এবং সংগঠনের মধ্যে তার নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
সেই দিন সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ভিপি আবদুর রশিদ জিতু এবং কয়েকজন নির্বাচিত প্রতিনিধি একই সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দেন। জিতু এবং তার সহকর্মীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দিক থেকে সমর্থন পেয়ে দলটির সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে তুলেছেন। এই যোগদানগুলো ছাত্রদলের প্রভাব বিস্তারে নতুন দিক উন্মোচন করেছে।
যথাযথভাবে উল্লেখ করা দরকার, জিতু বিএনপি তে যোগদান করেন, আর অন্যান্য প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে প্রবেশ করেন। এই বিভাজন দেখায় যে একই নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দিকের প্রতিনিধিরা আলাদা আলাদা সংগঠনে যুক্ত হতে পারেন। বিরোধী দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ছাত্র রাজনীতির বহুমুখিতা এবং পারস্পরিক প্রতিযোগিতার সূচক হিসেবে দেখা হয়।
প্রতিপক্ষের কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, মৃদুল দেওয়ানের এই পদক্ষেপ ছাত্রদলের ঐতিহ্যবাহী ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে, তবে একই সঙ্গে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে, বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ছাত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তন ভবিষ্যতে নির্বাচনী মঞ্চে নতুন গতিবিধি তৈরি করতে পারে।
দলটির অভ্যন্তরে মৃদুলের যোগদানকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ছাত্রদলের নেতৃত্বে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি সংযোজনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। তার পূর্বের অভিজ্ঞতা এবং নির্বাচনী সাফল্য দলকে তরুণ ভোটারদের মধ্যে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, জাকসু ভিপি জিতুর বিএনপি তে স্থানান্তরকে কিছু বিশ্লেষক সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে দেখছেন, কারণ এটি ছাত্রদলের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন বাড়াতে পারে। তবে জিতুর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে, মৃদুল দেওয়ানের যোগদান ছাত্রদলের সংগঠনগত কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে পারে এবং নির্বাচনী কৌশলে নতুন দিক যোগ করতে পারে। তার নেতৃত্বে দলটি পরবর্তী ছাত্র সংসদের নির্বাচনে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতে পারে, যা দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দৃশ্যে তরুণ নেতৃত্বের উত্থানকে ত্বরান্বিত করবে।
সামগ্রিকভাবে, গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মৃদুল দেওয়ানের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে অন্তর্ভুক্তি ছাত্র রাজনীতির গতিপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পরিবর্তন ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ সংহতি, বহিরাগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন। সময়ের সাথে সাথে এই পদক্ষেপের প্রকৃত ফলাফল স্পষ্ট হয়ে উঠবে।



