16 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিএন্ড্রু মাউন্টবাটন-উইন্ডসরের এপস্টেইন ইমেইলে রোয়াল্ডের আর্থিক সহযোগিতা প্রকাশ

এন্ড্রু মাউন্টবাটন-উইন্ডসরের এপস্টেইন ইমেইলে রোয়াল্ডের আর্থিক সহযোগিতা প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ সম্প্রতি প্রকাশ করা এপস্টেইন ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, প্রিন্স এন্ড্রু মাউন্টবাটন-উইন্ডসর ডেভিড রোয়াল্ডকে “বিশ্বাসযোগ্য অর্থের মানুষ” বলে উল্লেখ করেছেন। এই মেইলগুলোতে রোয়াল্ডের আর্থিক প্রকল্পগুলোকে এপস্টেইনের কাছে প্রচার করার চেষ্টা স্পষ্ট, যখন এন্ড্রু যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ইমেইলগুলোতে এন্ড্রু রোয়াল্ডের ব্যবসায়িক উদ্যোগে এপস্টেইনের বিনিয়োগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন, তবে এপস্টেইন রোয়াল্ডের প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করেন। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমে রোয়াল্ডকে “শেডি ফিন্যান্সিয়ার” বলে চিহ্নিত করার পর এপস্টেইন তার সঙ্গে কাজ করতে দ্বিধা প্রকাশ করেন।

ডেভিড রোয়াল্ডের পুত্র জোনাথন রোয়াল্ড এই বিষয়টি নিয়ে বিবিসিকে জানান, তিনি ও তার পিতা এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো সাক্ষাৎ, ডিনার বা চিঠিপত্রের বিনিময় করেননি। এই বক্তব্যের পরেও রোয়াল্ড পরিবারের আর্থিক লেনদেনের কিছু দিক ইমেইলে উঠে আসে।

রোয়াল্ডের মালিকানাধীন ব্যাংক, ব্যাংক হাভিল্যান্ড, লন্ডন ও লুক্সেমবার্গের নিয়ন্ত্রক সংস্থার তত্ত্বাবধানে সমস্যায় পড়ে। ২০২৪ সালে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক এই ব্যাংকের লাইসেন্স প্রত্যাহার করে, এবং বর্তমানে ব্যাংকটি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেছে।

ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, এন্ড্রু রোয়াল্ডের ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় এপস্টেইনের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছেন, যা তার বাণিজ্য প্রতিনিধি পদে থাকা সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে রোয়াল্ডের পুত্র জোনাথন রোয়াল্ডের আর্থিক সহায়তা নিয়ে কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

ইমেইলের একটি অংশে উল্লেখ আছে, রোয়াল্ডের ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত ঋণ দিয়ে এন্ড্রুর প্রাক্তন স্ত্রী সারা ফারগুসন নেপালে প্রথম শ্রেণীর ফ্লাইটে ভ্রমণ করেন। “সে নেপালে গিয়ে রোয়াল্ডের ব্যাংক ঋণ দিয়ে প্রথম শ্রেণীর টিকিট কিনেছে” এমন মন্তব্য মেইলে দেখা যায়, যা ফারগুসনের আর্থিক ব্যবহারের প্রতি কিছু অসন্তোষের ইঙ্গিত দেয়।

পূর্বে মিডিয়ায় এন্ড্রু হাভিল্যান্ড ব্যাংক থেকে অর্থ পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে, তবে সম্প্রতি প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলগুলোতে এই দাবিকে সমর্থনকারী কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিবিসি এই ফাইলগুলো পর্যালোচনা করে কোনো সরাসরি লেনদেনের প্রমাণ খুঁজে পায়নি।

এন্ড্রুর আর্থিক অবস্থা এবং ডেভিড রোয়াল্ডের সঙ্গে তার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে। জোনাথন রোয়াল্ড এন্ড্রু বা ফারগুসনকে অর্থ প্রদান বা ঋণ দেওয়ার সম্ভাবনা স্বীকার করেন, তবে তিনি সরাসরি এই লেনদেনের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন না।

এই নতুন তথ্যের প্রকাশের ফলে রাজকীয় পরিবার এবং যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে আর্থিক স্বচ্ছতার দাবি বাড়ছে। এন্ড্রুর বাণিজ্য প্রতিনিধি পদে থাকা সময়ের আর্থিক কার্যক্রমের ওপর অতিরিক্ত তদন্তের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, এবং রোয়াল্ডের ব্যাংকিং লাইসেন্স বাতিলের প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সম্ভাব্য পার্লামেন্টারি কমিটি এই ইমেইলগুলোকে ভিত্তি করে আরও তদন্ত চালাতে পারে, যা রাজকীয় পরিবারের আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার ওপর নতুন আলো ফেলতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments