16 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২২‑ধারার ইশতেহার নির্বাচনী ঘোষণার বিবরণ

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২২‑ধারার ইশতেহার নির্বাচনী ঘোষণার বিবরণ

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২২ ধারা সমন্বিত ইশতেহার প্রকাশ করেছে। প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি ঢাকা শহরের পুরানা পল্টনে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়।

ইশতেহারটি দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক দ্বারা সরাসরি উপস্থাপিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনীতি যদি আমানতের মতো পরিচালিত হয় এবং ক্ষমতা জবাবদিহিমূলক হয়, তবে রাষ্ট্রকে আল্লাহভীতি, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার নীতিতে চালিত করা সম্ভব।

প্রস্তাবনায় পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত ২২টি ধারার মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে উপস্থাপিত হয়েছে। প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে বিস্তৃত ভূমিকা এবং শেষে সমাপনী মন্তব্য যুক্ত করা হয়েছে, যাতে দলটির রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, নৈতিক অবস্থান এবং শাসনের নীতি স্পষ্ট হয়।

প্রথম অধ্যায়ে ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত শাসনকালে ঘটিত, কর্তৃত্ববাদী নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। দলটি একতরফা নির্বাচন, ভোটাধিকার হরণ, গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মতপ্রকাশের দমন এবং দুর্নীতির বিস্তারকে সমালোচনা করে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে ছয়টি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি নির্ধারিত হয়েছে। সেগুলো হল: সমন্বিত উন্নয়ন ও মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত শাসন প্রতিষ্ঠা, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, নৈতিক ভিত্তিক সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা, এবং যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান গ্যারান্টি।

তৃতীয় অধ্যায়ে ধর্মীয় পরিচয়, ইসলামী অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, কওমি মাদ্রাসা, কৃষক ও শ্রমিকের অধিকার, নারী ও শিশুর সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকারসহ বিস্তৃত নীতি ক্ষেত্রের পরিকল্পনা উপস্থাপিত হয়েছে।

দলটি ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধ সংরক্ষণে রাষ্ট্রের দায়িত্বকে জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে শিক্ষা, আর্থিক ও সামাজিক নীতিতে ইসলামী নীতি প্রয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ঘুষ, টেন্ডার জালিয়াতি, গুম-খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, ঋণখেলাপি এবং অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর নিন্দা করা হয়েছে। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পঞ্চম অধ্যায়ে ইশতেহারের সমাপনী অংশে শাসনের ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। দলটি ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছে।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানের পর অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকরা এখনও মন্তব্য করেননি, তবে নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে ইশতেহারটি পার্টির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এই নীতি ঘোষণার ফলে পার্টির সমর্থক ও সাধারণ জনগণের মধ্যে আলোচনা বাড়বে এবং নির্বাচনী প্রচারণার সময়সূচি গঠনে প্রভাব ফেলবে।

দলটি ইশতেহারটি প্রিন্ট ও ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বিতরণ করার পরিকল্পনা করেছে এবং নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন অঞ্চলে সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments