16 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান পেশাদার ও স্বাধীন সেনাবাহিনীর প্রতিশ্রুতি দেন

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান পেশাদার ও স্বাধীন সেনাবাহিনীর প্রতিশ্রুতি দেন

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ বিকেলে ঢাকা প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পার্টির নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোর প্রতিরক্ষা নীতি উপস্থাপন করে পেশাদার ও রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন সেনাবাহিনীর দাবি জানিয়েছেন। তিনি ম্যানিফেস্টোর মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরে দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।

তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, সেনাবাহিনীকে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখা দেশের স্বার্থ রক্ষার মৌলিক শর্ত। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি আমরা সত্যিই শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়তে চাই, তবে পেশাদারিত্বের ওপর জোর দিতে হবে এবং রাজনৈতিক প্রভাব থেকে দূরে রাখতে হবে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি পার্টির প্রতিরক্ষা নীতি ও সামরিক সংস্কারের দিকনির্দেশ স্পষ্ট করেছেন।

বিএনপি পার্টি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মীদের জন্য “ওয়ান র্যাঙ্ক, ওয়ান পেনশন” (OROP) নীতি প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই নীতি অনুসারে একই পদে সেবা করা সকল সৈন্যের জন্য সমান পেনশন নিশ্চিত করা হবে, যা প্রবীণ সেনাবাহিনীর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।

পার্টি দেশের রক্ষা শিল্পকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে “মেড ইন বাংলাদেশ” ভিত্তিক রক্ষা শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এতে অস্ত্র, গাড়ি, বিমান ও নৌযানসহ সামরিক সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে বাহিনীর চাহিদা পূরণ করা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজেটের ওপর চাপ কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিএনপি ম্যানিফেস্টোতে আধুনিক, পেশাদার এবং শক্তিশালী সেনাবাহিনীকে জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পার্টি দাবি করে, এমন একটি সেনাবাহিনী না থাকলে জাতীয় সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশ দুর্বল হয়ে পড়বে।

এছাড়া, পার্টি চার-মাত্রিক (৪ডি) সেনাবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বিশ্বাসযোগ্য নিরুৎসাহন ক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বহু-মাত্রিক যুদ্ধের প্রস্তুতি, স্থল, সমুদ্র ও আকাশ বাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি এবং দেশীয় গবেষণা ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বিশেষ করে, বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিকে “জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ” বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুতগতিতে এয়ারফোর্সের আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দ্রুতগতির (ফাস্ট-ট্র্যাক) পদ্ধতি গ্রহণের পরিকল্পনা ম্যানিফেস্টোতে উল্লেখ রয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মী ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা পার্টির এই প্রতিশ্রুতি প্রশংসা করে, তবে সরকারী পক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, বর্তমান সরকারও রক্ষা শিল্পের স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারী সূত্রে উল্লেখ আছে, ওআরওপি নীতি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং রক্ষা শিল্পে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিএনপি’র এই প্রতিরক্ষা নীতি দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত সৈন্য ও রক্ষা শিল্পের কর্মীদের সমর্থন পেতে পার্টি এই নীতিগুলোকে ভোটার আকর্ষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এছাড়া, আসন্ন নির্বাচনে নিরাপত্তা ও রক্ষা নীতি নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়ে উঠতে পারে, যা পার্টির ভোটাভুটি কৌশলে প্রভাব ফেলবে।

সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি পার্টি একটি বিস্তৃত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে, যার মধ্যে পেশাদার সেনাবাহিনী, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্তি, অবসরপ্রাপ্ত সৈন্যের কল্যাণ, দেশীয় রক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং বহুমাত্রিক যুদ্ধের প্রস্তুতি অন্তর্ভুক্ত। এই নীতিগুলোর বাস্তবায়ন কীভাবে দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে রূপান্তরিত করবে, তা ভবিষ্যতে দেখা যাবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments