বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান আজ ঢাকা শহরের প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পার্টির নতুন নির্বাচন ম্যানিফেস্টো উন্মোচন করে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদেশ নীতি গড়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনটি পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং ম্যানিফেস্টোর মূল বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে তীব্র আলোচনা হয়। তারেক রহমান ম্যানিফেস্টোর মূল দিকগুলো তুলে ধরে বলেন, বিদেশ নীতি গঠনের সময় দেশের স্বার্থ ও জনগণের মঙ্গলের ওপর জোর দেওয়া হবে।
বিএনপি’র নতুন নীতি ‘বাংলাদেশ বিফোর অল’ নামে সংজ্ঞায়িত, যা পার্টির বিদেশ নীতি গঠনের মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। এই নীতি অনুসারে, পার্টি বিদেশি সম্পর্ককে সমতা, ন্যায়বিচার এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে তোলার কথা বলেছে।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বিদেশ নীতি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি বিদেশি সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের মাধ্যমে নতুন ব্যবসা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের স্বার্থ রক্ষা করা এবং অন্য দেশের সঙ্গে সমতা ও বাস্তবিকতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা।”
বিএনপি ম্যানিফেস্টোর মধ্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সীমানার বাইরে কোনো শাসক নয়, বরং বন্ধুত্বপূর্ণ পার্টনার রয়েছে। পার্টি জোর দিয়ে বলেছে, বিদেশ নীতি গঠনের সময় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের মঙ্গলের ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে।
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়েও তারেক রহমানের মন্তব্য শোনা যায়। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ১.২ মিলিয়ন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং এই মানবিক চ্যালেঞ্জের সমাধানে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “রোহিঙ্গাদের নিরাপদে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা আমাদের দায়িত্ব।”
পানির ভাগাভাগি বিষয়ক সমস্যার কথাও ম্যানিফেস্টোতে উল্লেখ করা হয়েছে। তারেক রহমান উল্লেখ করেন, পদ্মা, তিস্তা এবং অন্যান্য নদীর জলে বণ্টন নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “বিএনপি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে টেবিলে বসে সমাধান খুঁজে বের করার ইচ্ছা রাখে, যাতে আমাদের দেশের জলসম্পদ সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করা যায়।”
সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে, বর্তমান সরকারও রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার সমাধান এবং নদী-বিভাজন বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারী সূত্রে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী প্রত্যাবাসন এবং নদী-বিভাজন চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনায় পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বিএনপি’র এই নতুন ম্যানিফেস্টো নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত হওয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পার্টির ভবিষ্যৎ কৌশলকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। পার্টির বিদেশ নীতি ও মানবিক বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া ভোটারদের মধ্যে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য না থাকলেও, সরকারী নীতি ও পার্টির ম্যানিফেস্টোর মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন। উভয় পক্ষই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিএনপি’র এই ঘোষণার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, পার্টি নির্বাচনী প্রচার শুরু করবে এবং ম্যানিফেস্টোর মূল নীতিগুলোকে ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সভা-সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে।
সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নতুন ম্যানিফেস্টোর মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ বিফোর অল’ নীতি তুলে ধরে দেশের স্বার্থ, মানবিক দায়িত্ব এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমতা ভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করবে।



