নিয়ন কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে টিয়ার‑এ প্রকাশের জন্য টুইন পরিচালক আরি ও চুকো এসিরি’র সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ক্লারিসা’ অধিগ্রহণ করেছে। ছবির প্রধান ভূমিকায় ব্রিটিশ‑নাইজেরিয়ান অভিনেত্রী সোফি ওকোনেডো এবং ডেভিড অয়েলোও উপস্থিত, আর তাদের সঙ্গে ডেভিডের সহ-অভিনেতা ডেভিড অয়েলোও যুক্ত।
নিয়ন ইন্টারন্যাশনাল বিদেশি বিক্রয় অধিকার নিশ্চিত করার পর, বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বাজারে ছবিটিকে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে। এই পদক্ষেপটি ছবির বৈশ্বিক বিতরণ নেটওয়ার্ককে বিস্তৃত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
‘ক্লারিসা’ লাগোস ও ডেল্টা স্টেট, নাইজেরিয়ার বিভিন্ন স্থানে শুট করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি ভর্জিনিয়া উলফের ক্লাসিক ‘মিসেস ড্যালোয়ে’ উপন্যাসের আধুনিক রূপান্তর হিসেবে গড়ে উঠেছে, যেখানে সমসাময়িক নাইজেরিয়ান সমাজের রঙিন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করা হয়েছে।
কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দুতে ওকোনেডো অভিনীত ক্লারিসা, লাগোসের নিজের বাড়িতে একটি পার্টি আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়। পার্টির রাতে তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে তার তরুণ বয়সের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে পুনর্মিলন করেন। এক রাতের মধ্যে অতীতের স্মৃতি, জটিল সম্পর্ক, গোপন আকাঙ্ক্ষা এবং হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের প্রতিধ্বনি শোনা যায়, যা চরিত্রগুলোর মধ্যে মধুর-তিক্ত পুনর্মূল্যায়ন ঘটায়।
চিত্রে ইন্ডিয়া আমারটিফিও, আয়ো এদেবিরি এবং টোহিব জিমোহের মতো তরুণ প্রতিভাও অংশ নেয়। এই সমবায় কাস্টটি ছবির বর্ণনায় বহুমাত্রিকতা ও সমসাময়িকতা যোগ করেছে।
চুকো এসিরি স্ক্রিনপ্লে রচনা করে, আর আরি এসিরি সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা ও প্রযোজনা করেন। দুজনই পূর্বে ‘এয়িমোফে’ (২০২০) নামে একটি চলচ্চিত্রে সফল debut দেখিয়েছিলেন, যেখানে লাগোসের বিশাল নগরীর পটভূমিতে দুই চরিত্রের স্বপ্ন ও সংগ্রাম চিত্রায়িত হয়েছিল।
‘ক্লারিসা’র প্রযোজনা দলেও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক নাম যুক্ত। থেরেসা পার্ক, নিকোলাস উইনস্টক, নিনা গোল্ড এবং থমাস বাসেট্টকে প্রযোজক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ওকোনেডো, ডলি ওমডোলাপো কোলা‑বালগুন, ওসাহন ওকুনব এবং জেসন রেইফকে নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর্থিক সহায়তা আফ্রিকাভিত্তিক আফ্রেক্সিমব্যাঙ্কের ক্রিয়েটিভ আফ্রিকা নেক্সাস এবং এমবিও ক্যাপিটালের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে। এই তহবিলের মাধ্যমে ছবির উচ্চমানের প্রোডাকশন ও পোস্ট‑প্রোডাকশন কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
অধিগ্রহণ ও বিতরণ চুক্তি নিয়নের অধিগ্রহণ, উন্নয়ন ও প্রোডাকশন পরিচালক কেট গন্ডউ এবং ইউটিএ ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম গ্রুপের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হয়েছে। উভয় পক্ষই ছবির আন্তর্জাতিক বাজারে সফলতা নিশ্চিত করার জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা গড়ে তুলেছে।
নিয়নের এই পদক্ষেপটি আফ্রিকান চলচ্চিত্রের প্রতি বাড়তে থাকা আগ্রহের সূচক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোম্পানি বিভিন্ন আফ্রিকান গল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে সক্রিয় হয়েছে, আর ‘ক্লারিসা’ তার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যাবে। বার্লিন বাজারে ছবির উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বিতরণকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘ক্লারিসা’ যুক্তরাষ্ট্রে থিয়েটার স্ক্রিনে প্রকাশের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে শিল্পের অভ্যন্তরে ইতিমধ্যে উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ছবির আধুনিক দৃষ্টিকোণ, সমৃদ্ধ কাস্ট এবং শক্তিশালী প্রযোজনা দলকে বিবেচনা করে, এটি নিকট ভবিষ্যতে দর্শকদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।



