16 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকচীন গোপনে পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষা চালিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিযোগ

চীন গোপনে পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষা চালিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিযোগ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার চীনের বিরুদ্ধে গোপন পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষা পরিচালনা এবং উচ্চ ক্ষমতার নতুন পরীক্ষার প্রস্তুতির অভিযোগ উত্থাপন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এই কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে। অভিযোগের ভিত্তি হল চীন ২০২০ সালের ২২ জুন একটি শতক টন ক্ষমতার পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে এবং পরবর্তীতে আরও বৃহত্তর ক্ষমতার পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে।

এই অভিযোগটি জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি থমাস ডিন্যানো উপস্থাপন করেন। ডিন্যানো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার চীনের গোপন পারমাণবিক পরীক্ষার তথ্য সম্পর্কে অবগত। তিনি উল্লেখ করেন, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি পরীক্ষাগুলোকে গোপন রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ডিন্যানোর বিবরণে চীন ২০২০ সালের ২২ জুন একটি শতক টন ক্ষমতার পারমাণবিক বিস্ফোরণ চালিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, কয়েকশ টন ক্ষমতার পরীক্ষার প্রস্তুতিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে, এই ধরনের পরীক্ষা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের সরাসরি প্রমাণ।

গত বছরের শেষ দিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একই ধরনের অভিযোগের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ট্রাম্প ৩১ অক্টোবর উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে ‘সমান ভিত্তিতে’ পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করবে। তবে তিনি কোন ধরনের পরীক্ষা পুনরায় চালু করা হবে তা স্পষ্ট করেননি।

ডিন্যানো উল্লেখ করেন, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি পরীক্ষাগুলোকে গোপন রাখতে ‘পারমাণবিক বিস্ফোরণ আড়াল করার’ চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, চীন জানত যে এসব পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত অঙ্গীকার লঙ্ঘন করে। এই গোপনীয়তা বজায় রাখতে চীন ‘ডিকাপলিং’ নামে পরিচিত একটি পদ্ধতি ব্যবহার করেছে।

‘ডিকাপলিং’ পদ্ধতি ভূকম্পন পর্যবেক্ষণের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, ফলে আন্তর্জাতিক সিসমিক নেটওয়ার্ক থেকে পরীক্ষার সংকেত লুকিয়ে রাখা সম্ভব হয়। ডিন্যানো এই তথ্যকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে তুলে ধরেন।

ডিন্যানোর মন্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন কূটনৈতিক পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়। পরিকল্পনায় রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার আহ্বান জানানো হয়, যাতে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা যায়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল পারমাণবিক প্রতিযোগিতা হ্রাস এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

চীন এই মুহূর্তে নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় অংশগ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে। চীনের সরকার জানায়, বর্তমান পর্যায়ে তারা আলোচনায় যোগ দেবে না। এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা রক্ষার গুরুত্ব পুনরায় জোর দিচ্ছে। জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটি এই বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারে এবং নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনার সূচনা করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ এবং চীনের প্রত্যাখ্যান উভয়ই বৈশ্বিক পারমাণবিক অ-প্রসারণ রেজিমের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন কীভাবে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার কাঠামো গড়ে তুলবে, তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এই অভিযোগের ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন উভয়ের কূটনৈতিক সম্পর্কের উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। পরবর্তী সপ্তাহে জেনেভা সম্মেলনে এই বিষয়টি পুনরায় আলোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments