ইংল্যান্ড ও ভারত এ দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত যুব ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে ৭২২ রানের ঐতিহাসিক মোট স্কোরের পর ভারত এ ৪১১/৯ দিয়ে ম্যাচ জিতে শিরোপা অর্জন করে। ইংল্যান্ডের ৩১১ রানের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতা এবং ভারত এ-এর শক্তিশালী ব্যাটিং পারফরম্যান্সই ফলাফল নির্ধারণ করে।
ইংল্যান্ডের অফ‑স্পিনার কানিস্ক চৌহান প্রথম ওভারে ক্যালেব ফ্যালকনারকে লম্বা ডেলিভারিতে ব্যাট পেতে দেন, তবে ফ্যালকনারের শটগুলো দ্রুতই টেকসই না হয়ে যায়। খিলান প্যাটেল মাঝখানে ঝাঁপিয়ে চমৎকার ক্যাচ নেন, যা টিভি আম্পায়ারকে স্ক্রিনে ‘আউট’ চিহ্ন দেখাতে বাধ্য করে। এই মুহূর্তে ইংল্যান্ডের স্কোরে সামান্য বৃদ্ধি পায়, তবে ভারত এ-এর উল্লাসে কোনো বাধা না থাকে।
ভারত এ-এর ওপেনার, ১৪ বছর বয়সী বাঁহাতি সুরিয়াভানশি প্রথম ওভারে আক্রমণাত্মকভাবে আড়ি দেন এবং ১৫টি চার ও ১৫টি ছক্কা দিয়ে ১৭৫ রান সংগ্রহ করেন। তার বিপরীতে অধিনায়ক আয়ুশ ৭টি চার ও ২টি ছক্কা দিয়ে ৫১ রান করেন, তবে ৫৩ বলের মধ্যে ৫১ রান করে দ্রুতই স্কোরে গতি আনেন। উভয়ের সংযোজনে ভারত এ ৫০ ওভারে ৯ উইকেটের সঙ্গে ৪১১ রান তৈরি করে, যা যুব ওয়ানডে ফাইনালের সর্বোচ্চ টোটাল।
ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন‑আপে বেন ডকিন্স ও ক্যালেব ফ্যালকনার প্রধান ভূমিকা রাখেন। ডকিন্স ৬৬ বলে ৫৬ রান করেন, আর ফ্যালকনার ৬৩ বলে ১১৫ রান করেন, যার মধ্যে সাতটি ছক্কা ও নয়টি চার থাকে। ফ্যালকনারের সেঞ্চুরি ৫ নম্বরের পরে আসে, যেখানে তিনি ৬৩ বলে ৬৭ রান যোগ করেন। তবে ইংল্যান্ডের শীর্ষ স্কোরার এই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দলটি ৪০.২ ওভারে ৩১১ রানে অলআউট হয়ে যায়।
ফাইনালের মোট ৭২২ রানের স্কোর কোনো যুব ওয়ানডে ম্যাচে পূর্বে দেখা যায়নি। পূর্বের সর্বোচ্চ রেকর্ড ২০১১ সালে ভিসাখাপাত্নামে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে ৭১৪ রান ছিল। সেই রেকর্ডকে অতিক্রম করে ভারত এ ও ইংল্যান্ডের সমন্বিত স্কোর নতুন মাইলফলক স্থাপন করে।
সুরিয়াভানশির ১৭৫ রানের ইনিংসটি কোনো বয়স‑ভিত্তিক, পুরুষ‑বা‑নারী, সিনিয়র‑বা‑ইয়ংস্ আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনালে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর হিসেবে রেকর্ড হয়। পূর্বে ২০২২ উইমেন’স ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে অ্যালিসা হিলির ১৭০ রান ছিল সর্বোচ্চ। সুরিয়াভানশি এই রেকর্ড ছাড়িয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কা, বাউন্ডারি থেকে সর্বোচ্চ রান এবং অন্যান্য বহু রেকর্ডে নাম লেখান।
টুর্নামেন্ট জুড়ে সুরিয়াভানশি ৬২.৭১ গড় এবং ১৬৯.৪৯ স্ট্রাইক রেট নিয়ে মোট ৪৯৯ রান সংগ্রহ করে, যা আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। তার এই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তাকে ‘প্লেয়ার অব দা টুর্নামেন্ট’ উপাধি দেওয়া হয়। ভারত এ দলের সামগ্রিক গড় ৬২.৭১ এবং স্ট্রাইক রেট ১৬৯.৪৯ টার্নামেন্টের সর্বোচ্চ গড়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, যা দলের আক্রমণাত্মক শক্তি প্রকাশ করে।
ফাইনালের পরবর্তী পর্যায়ে যুব বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচগুলো এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে এই জয় ভারত এ-কে শিরোপা রক্ষার পথে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। দলটি এখন পর্যন্ত ছয়টি শিরোপা জিতেছে, যার মধ্যে চারটি শিরোপা কোনো অন্য দল অর্জন করতে পারেনি। ইংল্যান্ডের একমাত্র শিরোপা ১৯৯৮ সালে ছিল, এবং ২০২২ আসরের ফাইনালেও তারা ভারত এ-র বিপক্ষে হেরেছিল।



