16 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিইউরোপীয় কমিশন টিকটককে ‘আসক্তিকর’ ফিচার বন্ধের নির্দেশ দিল

ইউরোপীয় কমিশন টিকটককে ‘আসক্তিকর’ ফিচার বন্ধের নির্দেশ দিল

ইউরোপীয় কমিশন শুক্রবার টিকটককে তার অ্যাপের কিছু নকশা উপাদানকে ‘আসক্তিকর’ বলে চিহ্নিত করে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্টের অধীনে পরিচালিত প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করে। কমিশন উল্লেখ করেছে যে অনন্ত স্ক্রল, অটোপ্লে এবং পুশ নোটিফিকেশনসহ সুপারিশ অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে নাবালক ও দুর্বল প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে। এই ফলাফলের ভিত্তিতে টিকটকের ব্যবহারকারী ইন্টারফেসের মৌলিক নকশা পরিবর্তনের দাবি করা হয়েছে।

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকটক তার ডিজাইন সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে ব্যবহারকারীর সুস্থতাকে প্রভাবিত করে তা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেনি। বিশেষ করে রাত্রিকালীন ব্যবহার সময়, অ্যাপের ঘন ঘন খোলার হার এবং ব্যবহারকারীর স্বয়ংক্রিয় স্ক্রলিং প্রবণতা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে। এই ধরনের উপেক্ষা ব্যবহারকারীর মধ্যে অবিরাম কন্টেন্ট গ্রহণের প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।

অ্যাপের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ভিডিও সরবরাহের পদ্ধতি ব্যবহারকারীর মস্তিষ্ককে ‘অটোপাইলট মোডে’ চালিত করে, ফলে স্ক্রল চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা বাড়ে। কমিশন উল্লেখ করেছে যে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের ডিজাইন ব্যবহারকারীকে বাধ্যতামূলক আচরণে ধাবিত করতে পারে এবং স্ব-নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হ্রাস করতে পারে। ফলে নাবালক ও দুর্বল প্রাপ্তবয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে।

কমিশন টিকটকের কাছে অনন্ত স্ক্রল ফিচার বন্ধ করা, স্ক্রিন টাইম বিরতি প্রয়োগ করা এবং সুপারিশ অ্যালগরিদমে পরিবর্তন আনার দাবি জানায়। এছাড়া ব্যবহারকারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিরতি নেওয়ার সুযোগ দিতে এবং কন্টেন্টের প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য করতে নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত পরিবর্তন প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো না নেওয়া হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।

টিকটকের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের প্রতি তীব্র প্রত্যাখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। টিকটকের একটি মুখপাত্র ইমেইল মাধ্যমে জানিয়েছেন, কমিশনের প্রাথমিক ফলাফলগুলো সম্পূর্ণভাবে ভুল এবং ভিত্তিহীন, এবং কোম্পানি সব উপলব্ধ উপায়ে এই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করবে। টিকটক দাবি করে যে তারা ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা ও সুস্থতা রক্ষার জন্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন টুল সরবরাহ করে।

কমিশন স্বীকার করেছে যে টিকটক স্ক্রিন-টাইম ম্যানেজমেন্ট টুল এবং প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ফিচার প্রদান করে, তবে সেগুলো ব্যবহারকারীর আসক্তি কমাতে যথেষ্ট নয়। বর্তমান টুলগুলো সহজে বন্ধ করা যায় এবং ব্যবহারকারীর জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি করে না, ফলে ব্যবহারকারীরা সহজে সেগুলো উপেক্ষা করতে পারে। প্যারেন্টাল কন্ট্রোলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রয়োজন, যা সব পিতামাতার জন্য সহজলভ্য নয়।

এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় কমিশন টিকটকের ওপর চাপ বাড়িয়ে নিয়ম অনুসারে দ্রুত সংশোধনী বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। টিকটককে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি যে কীভাবে তারা এই চাহিদা পূরণ করবে। তবে কমিশনের উল্লেখিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

এই বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল পরিষেবা নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে প্ল্যাটফর্মের নকশা ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে টিকটকসহ অন্যান্য সামাজিক মিডিয়া সেবাগুলোকে ব্যবহারকারী-কেন্দ্রিক নকশা গ্রহণে বাধ্য করা হতে পারে, যাতে ডিজিটাল পরিবেশে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা যায়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: TechCrunch
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments