16 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকোয়ারা রাজ্যের ওরো ও নুকু গ্রামে জিহাদি হামলা, কমপক্ষে ৭৫ জন নিহত

কোয়ারা রাজ্যের ওরো ও নুকু গ্রামে জিহাদি হামলা, কমপক্ষে ৭৫ জন নিহত

নাইজেরিয়ার কোয়ারা রাজ্যের ওরো ও নুকু গ্রামগুলোতে মঙ্গলবার সূর্যাস্তের এক ঘণ্টা আগে ১০০ এর বেশি সশস্ত্র জিহাদি গোষ্ঠীর সদস্যরা মোটরসাইকেলে আক্রমণ চালায়। তারা সামরিক ইউনিফর্ম পরিহিত ছিল এবং প্রতিবেশী মুসলিম গ্রামগুলোকে লক্ষ্য করে রিভেঞ্জের নামে আক্রমণ করে।

আক্রমণকারী দলটি সশস্ত্রভাবে সজ্জিত ছিল এবং গাড়ি না নিয়ে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে দ্রুত চলাচল করেছিল। তাদের সংখ্যা ও সজ্জা স্থানীয় সূত্রে জানায় যে, তারা প্রায় একশো জনের বেশি এবং সবারই সামরিক ধাঁচের পোশাক পরা ছিল।

মঙ্গলবার বিকেল প্রায় এক ঘণ্টা আগে, ফসলের কাজ শেষ করে মাঠ থেকে বাড়ি ফেরার পথে কৃষকরা হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হয়। এই গ্রামগুলোতে ইলিশ, মসুর, জোয়ার ইত্যাদি ফসল চাষ করা হয় এবং কৃষকরা সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার সময় আক্রমণের শিকার হয়।

আক্রমণকারীরা প্রথমে ঐতিহ্যবাহী নেতা উমর বায়ো সালিহুর বাড়িতে পৌঁছায়। সালিহু সম্প্রতি একটি চিঠি পেয়েছিলেন, যেখানে জিহাদিরা তাদের চরম ইসলামিক মতবাদ প্রচারের অনুমতি চেয়েছিল, যা গ্রামবাসী স্বীকার করেনি।

সালিহু বাড়িতে না থাকায়, জিহাদিরা তার বাড়ি ও আশপাশের সম্পত্তি জ্বালিয়ে দেয় এবং তার দুই সন্তানকে গুলিবিদ্ধ করে। দুই সন্তানই মেডিকেল স্টুডেন্ট ছিল এবং বাড়ির সামনে গুলি করে মেরে ফেলা হয়, তারপর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়।

“তারা ধর্মের নামে এসে আমাদের মানুষকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়,” উমর উসমান, যিনি পূর্বে শিক্ষক ছিলেন এবং ওরো গ্রামে বসবাস করেন, এভাবে ঘটনাটির বিবরণ দেন। তিনি জানান, আক্রমণটি রিভেঞ্জের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ছিল।

আক্রমণকারী দলটি রাতভর গ্রামগুলোতে ঘুরে ঘুরে হত্যা চালিয়ে যায়। শিকারের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং শিবিরে গিয়ে শিকারদের দেহে গুলির চিহ্ন দেখা যায়।

“তারা সবাইকে হত্যা করেছে, এটা সত্যিই বিধ্বংসী,” স্থানীয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদা এভাবে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, পুরো রাত জুড়ে হত্যাকাণ্ড অব্যাহত ছিল।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, শিকারের অনেকের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে; কিছু শিকারের গলা কেটে ফেলা হয়েছে, অন্যদের গুলিবিদ্ধ করা হয়েছে। এই তথ্যগুলো স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে পাওয়া গৃহীত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে।

সকালবেলায় জিহাদিরা গ্রাম ত্যাগ করার সময় ৩৮ জন নারী ও শিশুকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এতে উমর বায়ো সালিহুর বাকি পরিবারও অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে তার স্ত্রী ও তিনটি সন্তান রয়েছে।

সালিহু জানান, “দুই সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে এবং আমার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে অপহরণ করা হয়েছে।” তিনি শিকারের পরিমাণ ও পরিবারের ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেন।

আক্রমণকারীরা গ্রামবাসীদের নাইজেরিয়ার সরকার ও সংবিধান ত্যাগ করে তাদের চরম মতবাদ অনুসরণ করতে বাধ্য করতে চেয়েছিল। এভাবে তারা ঐ অঞ্চলে নিজস্ব শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিল।

সালিহু উল্লেখ করেন, “এটি কোরআনের শিক্ষা বিরোধী,” এবং বলেন যে ইসলাম ধর্মের মূল শিক্ষার সঙ্গে এই ধরনের জোরপূর্বক ধর্মপ্রচার ও সহিংসতা কোনো সম্পর্ক নেই।

নাইজেরিয়ার সরকার জিহাদি গোষ্ঠী বোকো হারামকে এই হামলার দায়ী করে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, বোকো হারাম এই অঞ্চলে পূর্বে বহুবার সহিংসতা চালিয়েছে এবং এই হামলায়ও তাদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

অধিক তদন্তের জন্য স্থানীয় পুলিশ ও ফেডারেল নিরাপত্তা সংস্থা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে। বর্তমানে শিকারের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণের কাজ চলছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় আদালত ও মানবাধিকার সংস্থাগুলি শিকারের পরিবারকে সহায়তা প্রদান এবং অপহৃতদের মুক্তির জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দাবি বাড়ছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments