অস্টিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অক্টোবর মাসে একটি নতুন স্পোর্টস কমেডি মকুমেন্টারি প্রথমবারের মতো দর্শকের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে। ছবির নাম ‘পিকলহেডস’, যা পিকলবল নামের দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জনকারী খেলাকে কেন্দ্র করে তৈরি। গল্পের মূল চরিত্র হলেন এক প্রাক্তন টেবিল টেনিস (পিং পং) তারকা, যাকে এক ডকুমেন্টারি টিম পুনরায় আলোকে আনার চেষ্টা করে, যাতে তিনি পিকলবলে নতুন করে সাফল্য অর্জন করে নিজের নাম পরিষ্কার করতে পারেন।
চিত্রনাট্য অনুসারে, এই পুরনো খেলোয়াড়ের পথে নানা অপ্রত্যাশিত বাধা আসে। তিনি নুডিস্ট প্রতিযোগীদের সঙ্গে মুখোমুখি হন, স্থানীয় কোর্টের শাসক ‘হক কাই’ নামের ব্যক্তির সঙ্গে টানাপোড়েনের মুখোমুখি হন এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবেশী প্রতিবাদকারী ও টেনিস খেলোয়াড়দের সঙ্গে একটি টার্ফ যুদ্ধের কেন্দ্রে পৌঁছে যান, যারা পিকলবলের অতিরিক্ত শব্দ ও গুঞ্জনকে বিরক্তিকর বলে মনে করে।
‘পিকলহেডস’ অস্টিন শহরে শ্যুট করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পিকলবল রাজধানী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। শহরের প্রতি বাসিন্দার তুলনায় কোর্টের সংখ্যা সর্বোচ্চ, ফলে এই খেলাটির উত্থান ও সম্প্রসারণের পটভূমি হিসেবে অস্টিনের পরিবেশকে কাজে লাগানো হয়েছে।
চলচ্চিত্রের পরিচালনা দায়িত্বে রয়েছেন জোশ ফ্ল্যানাগান, যিনি রুডার টুথের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করার পর এই প্রকল্পে হাত দিয়েছেন। চিত্রনাট্য লেখক জ্যারেড বোনার, যিনি একই সঙ্গে ছবিতে অভিনয়ও করেছেন, তার সৃষ্টিশীল দৃষ্টিকোণ থেকে পিকলবলের হাস্যকর দিকগুলোকে তুলে ধরা হয়েছে। প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন পেজ ভাহদাত, ক্রিস্টিন ফ্রোসেথ, হার্ভি গুইলেন, জন ও’হার্লি, অ্যাড্রিয়ান প্যালিকি, এরিক নেলসেন, রায়ান কুপার এবং লিন্ডসে মরগান।
ট্রেলারটি সম্প্রতি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। দর্শকরা ছবির মকুমেন্টারি শৈলী, হাস্যকর দৃশ্যাবলী এবং পিকলবলের আধুনিক সংস্কৃতি নিয়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সামাজিক দ্বন্দ্বকে প্রশংসা করছেন। একই সঙ্গে, ছবির মাধ্যমে পিকলবলের দ্রুত বিস্তার ও তার সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় সংঘাতের চিত্রণকে বাস্তবধর্মীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
‘পিকলহেডস’ লস এঞ্জেলেসে ১ মার্চের প্রিমিয়ার শোতে উপস্থিত হবে, যেখানে শিল্প জগতের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে চলচ্চিত্রটি বিতরণ সংস্থার সন্ধানে রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বৃহত্তর স্ক্রিনে বা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
পিকলবলের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, এই ধরনের কমেডি প্রকল্পগুলো খেলাটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করার সুযোগ দেয়। ‘পিকলহেডস’ কেবলমাত্র একটি হাস্যকর গল্প নয়, বরং আধুনিক শহুরে জীবনের বিভিন্ন স্তরে গড়ে ওঠা সংঘাত ও পুনর্মিলনের একটি চিত্রও উপস্থাপন করে।
সামগ্রিকভাবে, অস্টিন ফেস্টিভ্যালে ‘পিকলহেডস’ একটি তাজা দৃষ্টিকোণ ও হাস্যরসের মিশ্রণ নিয়ে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। চলচ্চিত্রের পরবর্তী প্রকাশনা ও বিতরণ পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য আসার সঙ্গে সঙ্গে আরও বিশদ জানানো হবে।



