ইস্তাম্বুলে তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থা দুই সন্দেহভাজনকে আটক করেছে, যাদের ওপর ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের জন্য গোপন তথ্য সরবরাহের অভিযোগ। গ্রেফতারের সময়, দুজনই ইতিমধ্যে তুর্কি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটির নজরদারিতে ছিলেন।
আনাদোলু এজেন্সি শুক্রবার জানায়, গ্রেপ্তার করা হয়েছে মেহমেত বুদাক দেরিয়া এবং ভেইসেল কেরিমওগলু। উভয়ই ইস্তাম্বুলে ধরা পড়ে এবং বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
দেরিয়া ২০০৫ সালে মার্সিন অঞ্চলে মার্বেল খনি চালু করার পর আন্তর্জাতিক ব্যবসায় যুক্ত হন, যেখানে তিনি খনন প্রকৌশলীর পদে কাজ করতেন। ২০১২ সালে একটি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তার সঙ্গে মোসাদের সংযোগ স্থাপিত হয়।
পরবর্তী বছর, ইউরোপের একটি সম্মেলনে তিনি প্রথমবার মোসাদের এজেন্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎকারের পর, তাকে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত তুর্কি নাগরিক ভেইসেল কেরিমওগলুকে নিয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়।
কেরিমওগলু এবং দেরিয়া ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে, এবং দুজনই মোসাদের জন্য তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। কেরিমওগলুর মাধ্যমে দেরিয়া মধ্যপ্রাচ্যে তার কার্যক্রম বাড়িয়ে তুর্কি ও ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন।
এই গোষ্ঠীগুলোর সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য মোসাদের কাছে প্রেরণ করা হতো, যা ইসরায়েল বিরোধী কার্যক্রমের বিশ্লেষণে ব্যবহৃত হতো। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, দেরিয়া এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান করতেন।
তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, দেরিয়া একাধিকবার ‘লাই ডিটেক্টর’ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন, যা তার গোপনীয়তা রক্ষার জন্য নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দুজনের বিরুদ্ধে গোপনচর্যাপরায়ণ আইন প্রয়োগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হবে। বর্তমানে তারা পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং তদন্তের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
তুর্কি আইন অনুসারে, গোপনচর্যাপরায়ণ অপরাধের শাস্তি কঠোর, এবং মামলাটি আদালতে উপস্থাপিত হলে সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণের ভিত্তিতে দণ্ডনীয় রায় দেওয়া হতে পারে।
সরকারি সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এমআইটি দীর্ঘ সময় ধরে দেরিয়া ও কেরিমওগলুর কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করছিল, তবে সম্প্রতি গোপন তথ্য সরবরাহের প্রমাণ পাওয়া গিয়ে গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনার পর, তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থা গোপনচর্যাপরায়ণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে গোপন তথ্যের প্রবাহ রোধে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অবশ্যই, এই মামলায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের আইনি অধিকার রক্ষার জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, এবং আদালতের রায়ের পরই চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারিত হবে।



