ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে বারাক ও মিশেল ওবামাকে বানর হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। ভিডিওটি মোট ৬২ সেকেন্ডের একটি ক্লিপের শেষ অংশে অন্তর্ভুক্ত, এবং এতে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট জালিয়াতি সম্পর্কিত দাবি ছিল। পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো ব্যাখ্যা না থাকলেও, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাপক বিতর্কের সূচনা হয়।
ভিডিওটি “দ্য লায়ন স্লিপস টুনাইট” গানের সুরে তৈরি, এবং হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিসের মতে এটি শুধুমাত্র একটি ইন্টারনেট মিম। হোয়াইট হাউস উল্লেখ করে, ক্লিপটি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জঙ্গল রাজা হিসেবে এবং ডেমোক্র্যাটদেরকে “দ্য লায়ন কিং” এর চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করে। এই ব্যাখ্যা অনুসারে, ভিডিওটির মূল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক রসিকতা, কোনো বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে নয়।
ক্লিপের উৎস হিসেবে অক্টোবর মাসে কনজারভেটিভ মিম নির্মাতা Xerias-এর এক্স পোস্ট উল্লেখ করা হয়েছে। একই ভিডিওতে নিউ ইয়র্কের প্রতিনিধি অ্যালেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্টেজ, নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহারান মামদানি এবং প্রাক্তন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে প্রাণী হিসেবে দেখানো হয়েছে। জো বাইডেনকেও একটি বানর হিসেবে কলা খেতে চিত্রিত করা হয়েছে, যা অতীতের বর্ণবাদী কার্টুনের স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে।
ভিডিওটি শেয়ার করার পর রিপাবলিকান পার্টির স্যেনেটর টিম স্কট, যিনি নিজেই কৃষ্ণাঙ্গ, পোস্টটি “হোয়াইট হাউস থেকে দেখা সবচেয়ে বর্ণবাদী বিষয়” বলে নিন্দা করেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তা মুছে ফেলতে আহ্বান জানান। স্কটের মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, এমন চিত্রায়ন জাতিগত বৈষম্যের ইতিহাসকে পুনরায় উন্মোচিত করে এবং রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের অফিস এক্সে পোস্ট করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণকে “ঘৃণাজনক” বলে বর্ণনা করে, এবং সকল রিপাবলিকানকে এই বিষয়টি নিন্দা করতে নির্দেশ দেয়। অফিসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রঙের ভিত্তিতে কোনো গোষ্ঠীকে অবমাননা করা কোনো রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে না এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।
প্রাক্তন ওবামা হোয়াইট হাউসের কৌশলগত যোগাযোগের উপদেষ্টা বেন রোডস মন্তব্যে জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার বর্ণবাদী সমর্থকদের জন্য এই ঘটনা একটি দাগ হয়ে থাকবে, আর ভবিষ্যতে আমেরিকানরা ওবামা দম্পতিকে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করবে। রোডসের বিশ্লেষণে তিনি যুক্তি দেন, বর্ণবাদী মিমের ব্যবহার রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ন করে এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের মতে, এই ক্লিপটি শুধুমাত্র একটি মিম এবং বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে নয়। তিনি মিডিয়াকে অনুরোধ করেন যে “নকল রাগ বন্ধ করে এমন বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিন যা সত্যিই আমেরিকান জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।” লেভিটের বক্তব্যে হোয়াইট হাউসের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়েছে, যে তারা ভিডিওকে অপ্রাসঙ্গিক মিম হিসেবে দেখছে এবং অতিরিক্ত উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য নয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে এক রাতের মধ্যে অনুরূপ বহু ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক বিতর্ককে তীব্র করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে এই ধরনের মিম ব্যবহার করে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বজায় রাখতে চাইছেন, যদিও এটি বর্ণবাদী চিত্রায়নের অভিযোগের মুখে পড়েছে। পোস্টগুলো সামাজিক মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে বিভাজন বাড়তে পারে, কারণ কিছু নেতা পোস্টের বিরোধিতা করছেন, অন্যদিকে কিছু সমর্থক এটিকে রাজনৈতিক রণকৌশল হিসেবে দেখছেন। ভবিষ্যতে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ নীতি এবং সামাজিক মিডিয়া ব্যবহারের ওপর আরও কঠোর নিয়মের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই বিতর্কের ফলে পার্টির ভিতরে নীতি নির্ধারণ এবং জনমত গঠনে নতুন চ্যালেঞ্জ উদ্ভূত হতে পারে।
সংক্ষেপে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেয়ার করা ভিডিওতে ওবামা দম্পতিকে বানর হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যা তৎক্ষণাৎ রাজনৈতিক নেতাদের নিন্দা এবং হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যা উত্থাপন করেছে। বিষয়টি বর্ণবাদী মিমের সীমা এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের দায়িত্ব নিয়ে জাতীয় স্তরে আলোচনার সূত্রপাত করেছে।



