ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা শুক্রবার বিকাল ৬ ফেব্রুয়ারি বিজয়নগরের চান্দুরা মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে গ্যাস সরবরাহের সমস্যাকে কেন্দ্র করে দাবি জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, গ্যাস ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ দেশের অন্যান্য অংশের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না।
ফারহানা গ্যাস সরবরাহ না হলে ঢাকা‑সিলেট মহাসড়ক বন্ধ করার হুমকি দেন, যা দেশের প্রধান পরিবহন ধারা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, গ্যাসের অভাবের ফলে সৃষ্ট অশান্তি দূর না হলে তিনি এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সমস্যার পটভূমি হল, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামাঞ্চলে গ্যাস পাইপলাইন সম্প্রসারণে বিলম্ব এবং সরবরাহের অস্থিতিশীলতা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গ্যাস না থাকায় রান্না, গরম পানি এবং শিল্প কার্যক্রমে বাধা পাচ্ছেন।
প্রার্থী রুমিন ফারহানা দাবি করেন, তিনি যদি নির্বাচিত হন তবে প্রথম কাজ হবে গ্যাসের সমন্বয় করে প্রতিটি গৃহে সরবরাহ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, গ্যাসের অভাব দূর না হলে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
হুমকির অংশ হিসেবে তিনি ঢাকা‑সিলেট মহাসড়ক বন্ধের কথা উল্লেখ করে গ্যাস সমস্যার জরুরি সমাধান চেয়েছেন। এই পথটি দেশের উত্তর‑দক্ষিণ সংযোগের মূল সড়ক, বন্ধ হলে বাণিজ্যিক গতি ও যাত্রী চলাচলে বড় প্রভাব পড়বে।
সমাবেশে ফারহানা আরও প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে এলাকার রাস্তাঘাট, হাসপাতাল ও অন্যান্য মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নে ত্বরান্বিত কাজ করবেন। তিনি বলেন, স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা উন্নত করে রোগীর সেবা মান বাড়াবেন।
ব্যক্তিগত দিক থেকে তিনি উল্লেখ করেন, এই অঞ্চল তার দাদা-দাদীর কবরস্থল এবং তার বাবার জন্মভূমি। তিনি বলেন, এই স্থানটির সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং এখানকার মানুষের প্রতি তিনি ঋণী।
ফারহানা ভোটারদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, গ্যাস সমস্যার সমাধান এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের জন্য তাদের সমর্থন প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, তার মেয়ে ও বোনের ভোটে তার কন্যা এমপি হতে পারে, যা তার পরিবারিক ঐতিহ্যকে রাজনৈতিক মঞ্চে নিয়ে আসবে।
সমাবেশটি বুধন্তি ও চান্দুরা ইউনিয়নের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সাবেক মেম্বার সায়েদ মিয়া ও হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে বিভিন্ন স্থানীয় নেতা অংশ নেন।
অন্যান্য উপস্থিত বক্তাদের মধ্যে সমন্বয়ক মুন্সি আসাদুজ্জামান, সাবেক বিএনপি নেতা প্রকৌশলী কাজী রফিকুল ইসলাম, বাবুল মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট জায়েদুল ইসলাম, সায়েদুল ইসলাম এবং কাজী মঈন উদ্দিন অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
সমাবেশে উপস্থিত স্থানীয় কর্মকর্তারা রুমিন ফারহানার দাবিগুলোর প্রতি কোনো মন্তব্য করেননি, তবে গ্যাস সরবরাহের সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানানো হয়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, গ্যাস সমস্যার ওপর ভিত্তি করে হুমকি ও প্রতিশ্রুতি উভয়ই ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। যদি গ্যাস সরবরাহে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে এই দাবি ভোটারদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি করতে পারে।
আসন্ন নির্বাচনের আগে রুমিন ফারহানা এই ধরনের র্যালি ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সমর্থনভিত্তি শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। তিনি আশাবাদী যে গ্যাস সমস্যার সমাধান এবং অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি তাকে ভোটারদের কাছ থেকে বেশি ভোট এনে দেবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সরবরাহের অবস্থা, ঢাকা‑সিলেট মহাসড়কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং রুমিন ফারহানার রাজনৈতিক পরিকল্পনা আগামী সপ্তাহে স্থানীয় রাজনীতির মূল আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।



