বাংলাদেশ জামাত‑ই‑ইসলামি আমীর ডা. শফিকুর রহমান গত শনিবার পিরোজপুর সরকারি হাইস্কুলের মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী র্যালিতে উল্লেখ করেন, গত বারোটি জাতীয় নির্বাচনের পরেও জনগণের মৌলিক প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত আসন্ন ভোট পূর্বের নির্বাচন থেকে মৌলিকভাবে ভিন্ন হবে এবং দেশের রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত হবে।
র্যালিতে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, পূর্বের নির্বাচনগুলোকে শোষণ, লুট এবং দেশের সম্পদ নিঃশেষ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন ভোটের মাধ্যমে তরুণদের স্বপ্ন, নারীর মর্যাদা, শিশুর নিরাপত্তা এবং কারিগর, মৃৎশিল্পী, বুননকারী, মৎস্যজীবী, নৌকারিগর, শ্রমিক ও কৃষকের আশা পূরণ করা হবে।
অতীত পনেরো বছর ধরে দেশের বাইরে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বহির্গত হয়েছে, এ বিষয়ে শফিকুর রহমান সতর্ক করেন। তিনি যুক্তি দেন, নতুন নির্বাচনের ফলাফলই এই নিখোঁজ অর্থ পুনরুদ্ধার এবং সমগ্র দেশে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি।
শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, জামাত শাসনে আসলে ন্যায়বিচার (ইনসাফ) ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। তিনি বেকারত্ব ভাতা বিতরণকে ‘অবমাননাকর’ বলে খারিজ করে, গর্বিত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। কর্মসংস্থান সুযোগগুলো ধর্ম, জাতি, লিঙ্গ বা সামাজিক স্তর নির্বিশেষে পারদর্শিতার ভিত্তিতে প্রদান করা হবে, যদিও বেতন ঝুঁকি ও যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হবে।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ের নীতিমালা সমালোচনা করে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, পূর্বে ভাতের দাম টাকার দশ টাকায় স্থির করার প্রতিশ্রুতি এবং সাম্প্রতিক কার্ড‑ভিত্তিক বিতরণ প্রকল্পগুলো জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারীদের ওপর হুমকি ও অপমানের ঘটনা বাড়ছে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়াকে নীরব অনুমোদন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
শফিকুর রহমানের মতে, ভোটাররা যদি জামাতকে শাসনে ফিরিয়ে আনেন, তবে ন্যায়বিচারকে ভিত্তি করে সমন্বিত উন্নয়ন, স্বচ্ছ অর্থনীতি এবং গর্বিত কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে। তিনি শেষ কথা বলেন, “এই নির্বাচনই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার মূল মুহূর্ত, যেখানে প্রত্যেকের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা হবে।”
এই র্যালি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, জামাতের এই নতুন নির্বাচনী রণকৌশল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপ্রকোপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে ভোটের ফলাফল কীভাবে গঠন করবে, তা এখনও অনিশ্চিত, কারণ ভোটারদের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যকরী নীতি এখনও স্পষ্ট নয়।
শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর, উপস্থিত ভক্তরা তালি ও উল্লাসে তার বক্তৃতা সমর্থন করেন এবং ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান। র্যালি শেষ হওয়ার পর, পিরোজপুরের স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভোটের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।



