দ্যুতি, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপি শাসন দখল করলে ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ খাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বলে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুক্রবার ঢাকার হোটেল সোনারগাঁয়ে অনুষ্ঠিত ইশতেহার ঘোষণার সময় জানান।
প্রকাশের সময় তিনি উল্লেখ করেন, শাসন ক্ষমতা অর্জনের পর দলটি এই বৃহৎ জলসেচন প্রকল্পটি শুরু করতে চায় এবং এ বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রাথমিক গবেষণা চালু রয়েছে।
খাল নির্মাণের মোট দৈর্ঘ্য ২০,০০০ কিলোমিটার নির্ধারিত হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এক বছর আগে নোয়াখালী ও গ্রেটার নোয়াখালী অঞ্চলে হঠাৎ বন্যা ঘটার পর এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে, তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান একটি উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন, যদি আমরা ৫০ বর্গ মাইল ব্যাসার্ধের একটি বিশাল সুইমিং পুল কল্পনা করি, যার গড় গভীরতা প্রায় ৭০ ফুট, তবে এমন একটি জলসঞ্চয় ব্যবস্থা দেশের বন্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
এছাড়া তিনি দেশের arsenic (আর্সেনিক) সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্সেনিকের ঘনত্ব ধীরে ধীরে কমে যাবে, ফলে পানির গুণমান উন্নত হবে।
ইশতেহার অনুষ্ঠানটি বিকেল ৩:৩০ টায় হোটেল সোনারগাঁয়ের হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চীন, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রাশিয়া, ব্রিটেনসহ ৩৮টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও উচ্চপদস্থ কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শফিক রেহমানসহ সিনিয়র সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, কবি, সাহিত্যিক, লেখক এবং কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও অংশ নেন।
বিএনপির এই বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের প্রতি অন্যান্য রাজনৈতিক দল এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি, তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে বাস্তবায়নের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলো নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে রাজনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
দলটি ইশতেহার ঘোষণার পরপরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিশেষজ্ঞ সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে, যা শীঘ্রই জনসাধারণের সামনে উপস্থাপন করা হবে।



